রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চলছে শিক্ষার্থীদের অবরোধ কর্মসূচি। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে টেকনিক্যাল মোড়ে অবস্থান নেন মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া সাড়ে ১১টার দিকে তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেন। এরপর বেলা ১২টার দিকে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করেন। পরে বেলা সোয়া ১২টার দিকে তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীর মিছিল নিয়ে এসে মহাখালীর আমতলী মোড় অবরোধ করেন।
অন্যদিকে দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা কলেজের জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন ইডেন কলেজ ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা। পরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সায়েন্সল্যাব অবরোধ করেন তারা। দুপুর পৌনে ১টায় তারা সায়েন্সল্যাব মোড়ে অবস্থান নেন। শিক্ষার্থীদের এ কর্মসূচির ফলে সায়েন্সল্যাব সংলগ্ন সব সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে পথচারীরা।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, সরকারি সাত কলেজ নিয়ে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ জারির দাবিতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মোড়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। তারা আগের দিন এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছিলেন, বুধবার বেলা ১১টা থেকে সায়েন্স ল্যাব, টেকনিক্যাল ও তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করা হবে।
অন্যদিকে তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থীরা সহপাঠী সাকিবুল হাসান রানার হত্যার বিচার দাবিতে ইন্দিরা রোডের মূল সড়ক ও ইন্দিরা রোড সংলগ্ন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ডাউন র্যাম্পের মুখ বন্ধ করে দেন। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ঢাকা মহানগর ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
দুপুরের ব্যস্ত সময়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে এই অবরোধের কারণে যানবাহন চলাচল ব্যবহত হচ্ছে। ফলে আশপাশের সড়কে যানজট তৈরি হচ্ছে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, সড়ক অবরোধের কারণে ইন্দিরা রোডের মুখে যানবাহন ডাইভার্ট করে বিজয় স্মরণীর দিকে পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি এক্সপ্রেসওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ইন্দিরা রোডের ডাউন র্যাম্প বন্ধ রাখা হয়েছে।
এর আগেও তেজগাঁও কলেজের ছাত্রাবাসে সংঘর্ষে আহত হয়ে শিক্ষার্থী সাকিবুল হাসান রানার মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে একাধিকবার বিক্ষোভ করেন কলেজটির শিক্ষার্থীরা। জানা গেছে, গত ৬ ডিসেম্বর ছাত্রাবাসে ঢুকে কয়েকজন বহিরাগত সাকিবুল হাসান রানাকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। চার দিন চিকিৎসার পর তিনি মারা যান।