প্রকাশিত : ১৮ নভেম্বর ২০২৫, ৫:৫১:১০
ডিজিটাল বিশ্বে দ্রুত পরিবর্তনশীল চাকরির বাজারে সর্বাধিক গুরুত্ব পাচ্ছে দক্ষতা বা স্কিল। বর্তমান সময়ে উচ্চশিক্ষা বা দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তিগত কোর্সের পাশাপাশি বিশ্বের নামী কোম্পানিগুলো এখন ব্যবহারিক দক্ষতাকে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এমন বাস্তবমুখী দক্ষতা সহজে অর্জনের সুযোগ দিচ্ছে Google Career Certificates, যা বাংলাদেশ থেকে সম্পূর্ণ অনলাইনে করা যায় এবং এই সার্টিফিকেট ইউরোপসহ উন্নত দেশের চাকরির বাজারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে।
গুগলের এই প্রফেশনাল সার্টিফিকেটগুলো ডিজাইন করা হয়েছে এমনভাবে, যাতে পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই ৩ থেকে ৬ মাসে আন্তর্জাতিক মানের স্কিল অর্জন করা যায়। সাইবার সিকিউরিটি, ডেটা অ্যানালিটিক্স, ডিজিটাল মার্কেটিং, আইটি সাপোর্ট, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট এবং ইউএক্স ডিজাইনের মতো উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন সেক্টরে কোর্সগুলো তৈরি হয়েছে গুগলের নিজস্ব বিশেষজ্ঞ দল দ্বারা। তাই বিশ্বব্যাপী কোম্পানিরা এই সার্টিফিকেটকে গ্রহণ করে বাস্তব কাজে দক্ষ কর্মী নিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে। ইউরোপে ইতিমধ্যে হাজারো শিক্ষার্থী এই সার্টিফিকেট নিয়ে সফলভাবে চাকরি পেয়েছে।
বাংলাদেশের তরুণদের জন্য এই সার্টিফিকেটের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—এটি সম্পূর্ণ অনলাইনে করা যায় এবং স্কলারশিপ বা কম খরচে শেষ করা সম্ভব। দেশে বসেই একজন শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক মানের স্কিল অর্জন করতে পারে, যা সরাসরি চাকরির বাজারে ব্যবহারযোগ্য। গুগলের নিয়োগকর্তা কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে প্রাপ্ত এই সার্টিফিকেট ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আমেরিকার ১৫০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানে চাকরির দরজা খুলে দেয়। IBM, Accenture, Deloitte, Infosys, Randstad-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত গুগল সার্টিফিকেটধারীদের নিয়োগ দিয়ে থাকে।
বিশেষ করে ইউরোপের চাকরি বাজারে আইটি ও টেক সেক্টরে ব্যাপক জনবল সংকট চলমান। জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, সুইডেনসহ অনেক দেশে সাইবার সিকিউরিটি, ডেটা বিশ্লেষণ, সফটওয়্যার সাপোর্ট ও ডিজিটাল মার্কেটিং পজিশনে লাখো শূন্যপদ রয়েছে। গুগল সার্টিফিকেটগুলোকে এসব দেশের চাকরির চাহিদার সঙ্গে সরাসরি সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে, যা বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও তরুণদের জন্য বিশেষ সুবিধা এনে দেয়। স্কিল অর্জনের পর সিভি ও প্রোফাইল আপডেট করলে আন্তর্জাতিক নিয়োগকারীরা সহজেই প্রার্থীকে খুঁজে পেতে পারে।
এই সার্টিফিকেট শেষ করার পর প্রার্থীরা গুগলের Interview Warmup টুল ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক মানের ইন্টারভিউ প্রস্তুতি নিতে পারে। পাশাপাশি কোর্সে শেখানো রিয়েল-টাইম প্রজেক্টগুলো LinkedIn ও পোর্টফোলিওতে যুক্ত করলে নিয়োগকারীদের আস্থা আরও বাড়ে। ইউরোপের অনেক কোম্পানি দক্ষ বিদেশি কর্মীদের রিলোকেশন, ওয়ার্ক ভিসা এবং জীবনযাপনের প্রাথমিক সহায়তাও প্রদান করে থাকে। অর্থাৎ, সার্টিফিকেট নিজে ভিসা নিশ্চিত না করলেও ইউরোপে ভালো চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দেয়।
অবশ্যই মনে রাখতে হবে, শুধু সার্টিফিকেটই সাফল্যের নিশ্চয়তা নয়। প্রার্থীর শেখার আগ্রহ, বাস্তব প্রজেক্ট তৈরি, ইংরেজি দক্ষতা এবং ইন্টারভিউ পারফরম্যান্স—এসবই আন্তর্জাতিক চাকরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে ক্যারিয়ার গড়তে ইচ্ছুক তরুণদের জন্য গুগল সার্টিফিকেট বর্তমানে সবচেয়ে সাশ্রয়ী, আধুনিক ও বৈশ্বিকভাবে গ্রহণযোগ্য স্কিল অর্জনের মাধ্যমগুলোর একটি।
ডিগ্রি ছাড়াই আন্তর্জাতিক মানের ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগকে বাস্তবে রূপ দিতে গুগল ক্যারিয়ার সার্টিফিকেট আজ বাংলাদেশের তরুণদের জন্য একটি শক্তিশালী পথ তৈরি করেছে। সঠিক প্রস্তুতি ও স্কিল-ভিত্তিক শেখার মাধ্যমে বাংলাদেশের একজন শিক্ষার্থীও ইউরোপসহ উন্নত দেশের চাকরি বাজারে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে—এই সার্টিফিকেট সেই সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করে দিয়েছে।
লেখক
হেড অব সোস্যাল এন্ড আইটি
নাগরিক প্রতিদিন