প্রকাশিত : ২১ নভেম্বর ২০২৫, ৬:০৮:৩৯
পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে দায়িত্ব পালনকালে দুই সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালায় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। আহত হন নাগরিক প্রতিদিনের জেলা প্রতিনিধি আরিফ বিল্লাহ এবং দৈনিক জনকণ্ঠ ও দেশকাল নিউজের জেলা প্রতিনিধি নাছরুল্লাহ আল-কাফী। ঘটনার ছয় দিন পার হলেও পুলিশ কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করেনি। উল্টো আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়।
বালিপাড়া ইউনিয়নের যুবদল নেতা খচরুল আলম আহত নাছরুল্লাহ আল-কাফীর মোবাইলে ফোন করেন। তিনি জানতে চান, আসামিদের নামে সংবাদ কেন করা হয়েছে। ফোনের কাছেই ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বালিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ ওরফে কালাম সিকদার। তিনি ফোনে ওই সাংবাদিককে পায়ের নলি ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেন।
এরপর কালাম সিকদারের পক্ষ থেকে আরেকটি নম্বর থেকে কল আসে। সেখানে খবর প্রকাশ না করার জন্য মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়।
এর আগে রোববার (১৬ নভেম্বর) বিকেলে ইন্দুরকানী উপজেলার চন্ডিপুর বাজারে সুপারি কেনাবেচা ও পরিবহন নিয়ে খবর সংগ্রহ করছিলেন ওই দুই সাংবাদিক। একই সময়ে চন্ডিপুর ইউনিয়ন বিএনপির একটি সমাবেশ চলছিল। এ সময় সাংবাদিকরা সুপারি ট্রাকে তোলা ও বাজার-সংক্রান্ত ভিডিও ধারণ করছিলেন। সমাবেশে উপস্থিতি কম থাকায় বিএনপির কিছু নেতাকর্মী মনে করেন যে, সাংবাদিকরা তাদের ফাঁকা চেয়ারের ছবি তুলছে—এমন সন্দেহে তারা অতর্কিতভাবে ওই দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা চালায়। তাদের কাছে থাকা দুটি মোবাইল ফোন, মাইক্রোফোন, ক্যামেরা স্ট্যান্ড, পেনড্রাইভ, প্রেসকার্ড, মানিব্যাগসহ নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।
পরে স্থানীয়রা আহত সাংবাদিকদের উদ্ধার করে ইন্দুরকানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে রাতে দু’জনকে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় সোমবার রাতে আহত আরিফ বিল্লাহর ভাই শরিফ বিল্লাহ বাদী হয়ে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল নেতাসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই দুই সাংবাদিক গুরুতর আহত হওয়ায় বর্তমানে জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আসামিরা হলেন—চন্ডিপুর (খোলপটুয়া) গ্রামের হাবিবুর রহমান শেখের ছেলে যুবদল নেতা অহিদুল ইসলাম শেখ (৩৫), দক্ষিণ চন্ডিপুর গ্রামের হারুন মৃধার ছেলে ছাত্রদল নেতা ফাইজুল ইসলাম তাওহিদ মৃধা (২১), পূর্ব চন্ডিপুর গ্রামের আব্দুল আউয়াল বেপারীর ছেলে তানভীর আহমেদ রাকিব (২২), উত্তর কলারন গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমান হাওলাদারের ছেলে মো. জুয়েল হাওলাদার (৪০), পশ্চিম কলারন গ্রামের আলি আকবার তালুকদারের ছেলে বিএনপি কর্মী শাহাদাৎ হোসেন হিরু তালুকদার (৪৮), পশ্চিম চরবলেশ্বর গ্রামের মেনহাজের ছেলে যুবদল নেতা ফারুক হোসেন (২৮), পচ্চিম চরবলেশ্বর গ্রামর মৃত আলী আহমেদের ছেলে আবু ছালেহ বেপারি (৫০) ও আল আমিন শেখ (৪২)। এছাড়াও অজ্ঞাত আসামি করা হয় ২০-২৫ জনকে।
এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মঙ্গলবার পিরোজপুর টাউন ক্লাব সড়কে জেলার কর্মরত সাংবাদিকরা মানববন্ধন করেন। এছাড়া পিরোজপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন, ইন্দুরকানী প্রেসক্লাব, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ জেলা শাখা ও ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটি অফিসিয়াল বিবৃতির মাধ্যমে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।
এ বিষয়ে ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসান কবির বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমি এখানে নতুন এসেছি, তবে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আসামিদের পাওয়া যায়নি। তবে গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।