প্রকাশিত : ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ৮:৩৮:১৫
পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় অস্ত্রহাতে গুলি ছোড়া সেই যুবক জামায়াতের কর্মী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আব্দুর নূর রোববার (৩০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এ তথ্য জানান।
ওসি বলেন, ‘সংঘর্ষের দিন অস্ত্রহাতে গুলি ছোড়া যুবক তুষার মণ্ডল জামায়াতের কর্মী। তার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর পরিচয় শনাক্ত হয়। তবে এখনো তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ তাকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছে।’
তুষার মণ্ডল ঈশ্বরদী পৌরসভার ভেলুপাড়া এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় বেশ কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, তুষার পাবনা জেলা জামায়াতের আমির ও পাবনা-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলের ভাতিজা মামুন মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।’
এদিকে, সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা পাল্টাপাল্টি দুই মামলায় উভয়দলের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাতে অভিযান চালিয়ে জামায়াতের দুজন এবং বিএনপির তিন কর্মীকে আটক করা হয়। রোববার বিকেলে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
ওসি আরও বলেন, ‘দুপক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে মামলা করেছে। মামলার বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। আমরা আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী আসামিদের গ্রেপ্তার করছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।’
এর আগে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষের ঘটনায় শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে পাল্টাপাল্টি দুটি মামলা করা হয়।
সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষকদলের আহ্বায়ক মক্কেল মৃধার ছেলে ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক বাঁধন হাসান আলিম বাদী হয়ে ৩২ জন জামায়াত নেতার নাম উল্লেখ করে ঈশ্বরদী থানায় একটি মামলা করেন। এছাড়া ১৫০ থেকে ২০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়। এই মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে পাবনা জেলা জামায়াতের আমির এবং পাবনা-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আবু তালেব মণ্ডলকে।
অপরদিকে, ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইদুল ইসলাম বাদী হয়ে একই থানায় ৩৮ জন বিএনপি নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে অপর মামলাটি করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষকদলের আহ্বায়ক মক্কেল মৃধাকে। এছাড়া ১০০ থেকে ১৫০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই পাবনা-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের আত্মীয় এবং অনুসারী।
পুলিশ ও স্থানীয়দের মতে, গত বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলার চর গড়গড়ি গ্রামে জামায়াত প্রার্থীর একটি নির্বাচনি প্রচারকে কেন্দ্র করে জামায়াত-বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষে উভয়পক্ষের কমপক্ষে অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক আহত হন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে বিএনপির-জামায়াতের অনেক নেতাকর্মী এলাকা থেকে পালিয়ে গেছেন।