চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) বিভিন্ন পদের নিয়োগ পরীক্ষা শনিবার (১৭ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর ঠিক আগ মুহূর্তে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় হয়।
শুরুতে সিডিএর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পিয়নের ছেলেকে আটকের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে সাধারণ পরীক্ষার্থীদের মধ্যে পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, রায়হান নামের ওই ছেলেকে তারা আটক করেনি।
এ ঘটনার পর কয়েকজন পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক দাবি করেন, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিক্রির সঙ্গে রায়হান জড়িত থাকতে পারে। এতে সাধারণ পরীক্ষার্থীদের মধ্যে পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
আটক হওয়া যুবকের নাম রায়হান। তিনি সিডিএ সচিব রবীন্দ্র চাকমারের অফিস কর্মচারী নুর মোহাম্মদের (বাদশা) ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, গত ১৪ জানুয়ারি তিনি প্রশ্নফাঁসের টাকার লেনদেন করতে গিয়ে ধরা পড়েন। পরে স্থানীয়রা রায়হানকে সিডিএ সচিব রবীন্দ্র চাকমারের কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর তাকে কোতোয়ালি থানায় সোপর্দ করা হয় বলে সিডিএ সূত্রে জানা যায়। তবে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আফতাব উদ্দিন বলেছেন, ‘রায়হান নামে কাউকে আটক করা হয়নি।’
সিডিএ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম সরকারি মুসলিম হাইস্কুল, কলেজিয়েট স্কুল ও নাসিরাবাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শনিবার সকাল ১০টায় জুনিয়র হিসাব রক্ষক, সাঁটলিপিকার কাম-কম্পিউটার অপারেটর, মার্কেট সুপারিনটেনডেন্টসহ ১১টি পদের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে সিডিএ সচিব রবীন্দ্র চাকমাকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল করেও সাড়া মেলেনি।
এর আগে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম শুক্রবার বলেন, ‘প্রশ্নপত্র আজ তৈরি হচ্ছে। ছয়জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রশ্ন প্রণয়ন কাজে নিয়োজিত আছেন। আমিও জানি না, প্রশ্ন কী। রাতেই চূড়ান্ত করা হবে এবং সকালে কেন্দ্রে পাঠানো হবে। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’
এ ছাড়া রায়হানকে থানায় সোপর্দ করার বিষয়ে প্রশ্ন করলে চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরাই তাকে ধরিয়ে থানায় দিয়েছি। পুলিশ যদি অস্বীকার করে, সেটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেখবে। কেন এমন বলেছে, সেটা তাদের বিষয়।’