প্লাস্টিক দূষণ কমাতে এবং দৈনন্দিন ব্যবহারে প্লাস্টিকের বিকল্প তৈরি করতে ২০২৫ সালে যাত্রা শুরু করেছে সাস্তোরা লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান পণ্য সাস্তোরা বায়ো ব্যাগ। পরিবেশবান্ধব হওয়ার পাশাপাশি সাশ্রয়ী দাম, শক্তিশালী বহনক্ষমতা, কাস্টমাইজেশন এবং স্থানীয় উৎপাদন—এই কয়েকটি বৈশিষ্ট্যকে সামনে রেখে দেশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিকল্প প্যাকেজিং সমাধান তৈরি করছে সাস্তোরা। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির আহমদ আখতার (সামির)-এর নেতৃত্বে সাস্তোরা পরিবেশবান্ধব ব্যাগের উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
১০০% বায়োডিগ্রেডেবল ও কম্পোস্টেবল
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাস্তোরা-এর পণ্য তথ্য অনুযায়ী, তাদের বায়ো ব্যাগ ১০০% বায়োডিগ্রেডেবল ও কম্পোস্টেবল হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ব্যাগটি প্রায় ১৮০ দিনের মধ্যে ডিকম্পোজেস বা জৈবভাবে ভেঙে যেতে পারে এবং এতে ক্ষতিকর বিষাক্ত অবশিষ্টাংশ থাকে না।
সাস্তোরার তথ্য অনুযায়ী, বায়ো ব্যাগ তৈরিতে প্ল্যান্ট-বেজড ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ প্রচলিত প্লাস্টিকের পরিবর্তে উদ্ভিদভিত্তিক কাঁচামাল ব্যবহার করে ব্যাগ তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের পণ্য এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে ব্যবহারের পর পরিবেশে দীর্ঘস্থায়ী প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরির ঝুঁকি কমে।
নন-ওভেনের তুলনায় ১৫% পর্যন্ত সাশ্রয়ী
পরিবেশবান্ধব পণ্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—দাম কত?
প্রতিষ্ঠানটি বলছে, সাস্তোরা এই জায়গায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মূল্য-সুবিধা তুলে ধরছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, তাদের বায়ো ব্যাগ নন-ওভেন ব্যাগের তুলনায় প্রায় ১৫% কম দামে সরবরাহ করা সম্ভব। একই সঙ্গে জুট ও পেপার ব্যাগের তুলনায় ২ থেকে ৫ গুণ পর্যন্ত কম খরচে পাওয়া যেতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।
অর্থাৎ ব্যবসায়ীদের জন্য পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে অতিরিক্ত খরচের আশঙ্কা থাকে, সেটি কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে সাস্তোরা। তবে প্রকৃত মূল্য সাইজ, পুরুত্ব, প্রিন্টিং, অর্ডারের পরিমাণ ও অন্যান্য কাস্টমাইজেশনের ওপর নির্ভর করবে।
প্লাস্টিকের মতো ব্যবহারিক, ব্যবহারের পর পরিবেশবান্ধব
প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সাস্তোরা-এর অন্যতম মূল ইউএসপি হলো—পরিবেশবান্ধব হওয়ার পাশাপাশি ব্যাগকে ব্যবহারিক রাখা।
প্রতিষ্ঠানের পণ্য তথ্য অনুযায়ী, তারা শপিং ব্যাগ, গার্বেজ ব্যাগ, প্যাকিং ব্যাগ এবং পেট ওয়েস্ট ব্যাগসহ বিভিন্ন ধরনের বায়োডিগ্রেডেবল ব্যাগ তৈরি করে।
বিভিন্ন ব্যবসার প্রয়োজন অনুযায়ী, ডব্লিউ-কাট ক্যারি ব্যাগ, ডি-কাট ক্যারি ব্যাগ এবং ফ্ল্যাট ব্যাগ তৈরি করা হচ্ছে। এগুলো সুপারমার্কেট, গ্রোসারি শপ, জুতার দোকান, বইয়ের দোকান, মিষ্টির দোকান, ফার্মেসি, পোশাকের দোকান, বেকারি, গিফট শপ, বুটিক এবং অন্যান্য রিটেইল ব্যবসায় ব্যবহার করা যায়।
২ থেকে ১২ কেজি পর্যন্ত বহনক্ষমতা
সাস্তোরা বায়ো ব্যাগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—এর বিভিন্ন সাইজ ও বহনক্ষমতা। পণ্য তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ডিজাইন ও সাইজে ব্যাগের লোডিং ক্যাপাসিটি প্রায় ১ কেজি থেকে সর্বোচ্চ ১২ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। বিশেষ করে ডি-কাট ক্যারি ব্যাগের বিভিন্ন মডেলে ২–৩ কেজি থেকে ১০–১২ কেজি পর্যন্ত বহনক্ষমতার অপশন রয়েছে। ফলে ছোট দোকানের হালকা পণ্য থেকে শুরু করে সুপারশপ বা রিটেইল ব্যবসার তুলনামূলক ভারী পণ্য বহনের জন্যও প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাগ নির্বাচন করা সম্ভব।
কাস্টম সাইজ ও ব্র্যান্ডিং
সাস্তোরার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ব্যবসায়ীদের জন্য সাস্তোরা বায়ো ব্যাগের আরেকটি সুবিধা হলো কাস্টমাইজেশন। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ছোট থেকে এক্সএল পর্যন্ত বিভিন্ন সাইজে ব্যাগ তৈরি করা যায়। একই সঙ্গে কাস্টম ওয়ান-কালার প্রিন্টিং এবং করপোরেট ব্র্যান্ডিংয়ের সুবিধাও রয়েছে।
এর ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজস্ব লোগো, নাম ও ব্র্যান্ড পরিচিতি ব্যাগে যুক্ত করতে পারে। এতে পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং ব্যবহারের পাশাপাশি ব্যাগটি ব্র্যান্ড প্রচারের মাধ্যম হিসেবেও কাজ করতে পারে।
মেড ইন বাংলাদেশ, কম্পিটিটিভ প্রাইসিং
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সাস্তোরা তাদের পণ্য বাংলাদেশেই উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, ঢাকায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের মাধ্যমে বিশ্বমানের পণ্য তৈরির পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক মূল্য ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। নিজস্ব উৎপাদন ব্যবস্থা থাকায় বড় অর্ডার, নির্দিষ্ট সাইজ, বিভিন্ন ডিজাইন এবং কাস্টম প্রিন্টিংয়ের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
পরিবেশের পাশাপাশি ব্যবসার হিসাব
সাস্তোরার মতে, পরিবেশবান্ধব পণ্য জনপ্রিয় করতে শুধু পরিবেশের কথা বললেই হবে না; পণ্যকে ব্যবসায়ীদের জন্য অর্থনৈতিকভাবেও কার্যকর হতে হবে। এই কারণে তাদের পণ্য উন্নয়নে তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে—এনভায়রনমেন্টাল রেসপনসিবিলিটি, অ্যাফোর্ডেবিলিটি এবং প্র্যাক্টিক্যাল পারফরম্যান্স।
প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড বার্তা—‘ইকো-ফ্রেন্ডলি | রেসপনসিবল | ফিউচার-রেডি’।
সাস্তোরার লক্ষ্য
ম্যানেজিং ডিরেক্টর মির আহমদ আখতার (সামির)-এর নেতৃত্বে সাস্তোরার লক্ষ্য দেশের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিংকে আরও সহজলভ্য করা। সাস্তোরা মনে করে, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে শুধু নিষেধাজ্ঞা বা সচেতনতা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন এমন বিকল্প, যা পরিবেশবান্ধব, মানসম্মত, শক্তিশালী এবং সাশ্রয়ী। সেই লক্ষ্যেই সাস্তোরা বায়ো ব্যাগ বিভিন্ন সাইজ, ডিজাইন, বহনক্ষমতা ও ব্র্যান্ডিং সুবিধার মাধ্যমে সুপারশপ থেকে শুরু করে ফার্মেসি, বেকারি, রেস্টুরেন্ট, ফ্যাশন হাউজ, ই-কমার্স ও অন্যান্য ব্যবসার জন্য পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং সমাধান দিতে কাজ করছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।