বড় ভাই মেহেদী হাসানকে (২৫) বিমানবন্দরে পৌঁছে দিতে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে মাইক্রোবাসে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বাসিন্দা ইব্রাহিম খলিল (১৪)। পথে এক দুর্ঘটনায় চালকের সঙ্গে প্রাণ যায় তারও। এমন পরিস্থিতিতে ছোট ভাইয়ের লাশ দাফন না করেই সৌদি আরবে চলে যেতে হয়েছে মেহেদীকে।
পরিবারের সদস্যরা বলছেন, জীবিকার তাগিদে এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন মেহেদী।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ছয়টার দিকে দাউদকান্দি উপজেলার মালিখিল এলাকায় ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আরেকজন হলেন ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চারিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মাইক্রোবাসটির মালিক ও চালক মো. শাহীন (৪০)। তার পাশের আসনে বসেছিল কিশোর ইব্রাহিম খলিল। ইব্রাহিম খলিল একই উপজেলার ছান্দ্রা গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য মেহেদী হাসানের ফ্লাইট ছিল গতকাল বেলা ১টা ২০ মিনিটে। তাকে পৌঁছে দিতে কুমিল্লা থেকে মাইক্রোবাসে রওনা দেন বাবা জয়নাল আবেদীন (৫৫), স্ত্রী সানজিদা আক্তার (১৮), ভাগনি ফারজানা আক্তার (১০), ভাগিনা মো. ইমন (১৫) ও ছোট ভাই ইব্রাহিম খলিল (১৪)।
পথে মালিখিল এলাকায় একটি ট্রাক হঠাৎ থেমে যায়। এ সময় পেছন থেকে আসা মাইক্রোবাসটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে মাইক্রোবাসের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলে দুজন মারা যান।
কিশোর ইব্রাহিম খলিল ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চান্দুয়া গাউছিয়া আলিয়া মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিল। গতকাল বাদ মাগরিব তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
ইব্রাহিমের চাচা জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘মেহেদীর ভিসার মেয়াদ ছিল না। চোখের সামনে একই গাড়িতে থাকা ছোট ভাইয়ের লাশ রেখে নিরুপায় হয়ে মেহেদীকে চলে যেতে হয়েছে। ওই দুর্ঘটনায় মেহেদী নিজেও আহত হন। জীবিকার তাগিদে দেশে ভাইয়ের লাশ রেখে গেলেও এমন শোক মেহেদী কীভাবে সইবে, জানি না।’
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাকির হোসেন বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসটি পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে।