অল্প খরচে বেশি লাভের আশায় কক্সবাজারের কৃষকরা দিন দিন সরিষা চাষের দিকে ঝুঁকছেন। আমন ধান কাটার পর পতিত জমিতে স্বল্প সময়ের এ ফসল আবাদ করে ভালো মুনাফা পাচ্ছেন চাষিরা। ফলে, জেলার বিভিন্ন উপজেলার মাঠ এখন ছেয়ে গেছে সরিষার হলুদ ফুলে।
কৃষি বিভাগ বলছে, চলতি ২০২৫–২৬ মৌসুমে জেলায় সরিষা চাষ ও ফলনের হার আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে। ভোজ্যতেলের বাজারমূল্য বৃদ্ধি এবং উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। আবাদি জমি বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাও সংশোধন করা হয়েছে।
চকরিয়া, রামু, পেকুয়া ও কক্সবাজার সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, দিগন্তজোড়া মাঠ সরিষার ফুলে সোনালি রঙে রূপ নিয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ায় গাছের বৃদ্ধি ভালো হওয়ায় অধিক ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে প্রায় ১২৭৬ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে চকরিয়ায় প্রায় ৬০০ হেক্টর, পেকুয়ায় ৩০০ হেক্টর, রামুতে ২৬০ হেক্টর, এবং সদরে ১১৬ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। উৎপাদনের সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ২ হাজার ২০০ মেট্রিক টন।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, গত তিন বছরের ব্যবধানে সরিষার আবাদ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আমন কাটার পর পতিত জমিকে চাষের আওতায় আনার ফলে এ সাফল্য এসেছে।
চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব বড়ইতলী গ্রামের কৃষক নুরুল আমিন চার একর জমিতে বারি-১৪ জাতের সরিষা আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, ‘গত বছর ভালো লাভ হয়েছিল। তাই এ বছর জমি বাড়িয়েছি। বিঘাপ্রতি প্রায় সাত মণ ফলনের আশা করছি।’
রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের কৃষক জসিম উদ্দিন দেড় একর জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। তিনি জানান, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রণোদনা হিসেবে উন্নত মানের বীজ ও সার পেয়েছেন। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৮০ হাজার টাকা লাভের আশা করছেন।
পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের কৃষক আবদুল হাকিম ও তার ভাই মিলিয়ে প্রায় এক একর জমিতে সরিষা আবাদ করেছেন। তারা বলেন, ‘আমন কাটার পর জমি ফেলে না রেখে সরিষা লাগিয়েছি। গাছে ভালো শিম এসেছে। আবহাওয়া ঠিক থাকলে ফলন ভালো হবে।’
সদর উপজেলার খুরুশকুল এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, ৭০ শতক জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। কৃষি বিভাগের সহায়তায় বীজ ও সার পাওয়ায় খরচ কম হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দুই-আড়াই মাসের মধ্যে ফসল ঘরে তুলতে পারি। লাভও ভালো হয়।’
খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, বিঘাপ্রতি তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা খরচে গড়ে সাত থেকে আট মণ সরিষা পাওয়া সম্ভব। বাজারে প্রতি কেজি ৯৫ থেকে ১১০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে বিঘাপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করা যাচ্ছে।
সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. রাসেল রানা বলেন, ‘সরিষা একটি স্বল্পমেয়াদি ও স্বল্প ব্যয়ের ফসল। মাত্র ৭০-৭৫ দিনে ঘরে তোলা যায়। সেচের প্রয়োজন খুবই কম। কৃষকদের মাঝে সরকারি প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে, যাতে আবাদ আরও বাড়ে।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. বিমল কুমার প্রামাণিক বলেন, ‘উন্নত জাতের সরিষা চাষের ফলে ফলন আগের তুলনায় বেশি হচ্ছে। চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।’