ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গণনা ও ফলাফল প্রক্রিয়ায় ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে ময়মনসিংহ টাউন হলের তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত মহানগর রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন। সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ময়মনসিংহ মহানগর শাখা।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ভোটের দিন কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল এবং দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ইতিবাচক সাড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভোট গণনা শুরুর পর দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে একের পর এক আসনে বিজয়ের খবর আসতে থাকে।
তিনি দাবি করেন, রাত ৯টার পর রহস্যজনকভাবে গণমাধ্যমে ফলাফল প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। এরপর যে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত গণরায়ের প্রতিফলন নেই। আমরা মনে করি, ভোট গণনা এবং ফলাফল প্রস্তুতের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করা হয়েছে।
গোলাম পরওয়ার আরও অভিযোগ করেন, অনেক সংসদীয় আসনে এক থেকে পাঁচ হাজার ভোটের ব্যবধানে জামায়াতে ইসলামীকে পরাজিত দেখানো হয়েছে। তাঁর দাবি, এ ধরনের আসনের সংখ্যা ৫০-এর বেশি। তিনি জানান, ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট আসনগুলোর রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। বিধি অনুযায়ী পুনঃগণনা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার কথাও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘যেসব আসনে অনিয়ম হয়েছে, সেগুলো পুনঃগণনা করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ইনসাফপূর্ণ সমাধান করতে হবে। আমরা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ন্যায়বিচার চাই।’
দলের অবস্থান তুলে ধরে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি নির্বাচনমুখী ও নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। দেশের শান্তি, উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা, জননিরাপত্তা এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সরকার পরিচালনার পরিবেশ রক্ষায় দলটি দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে আসছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অনিয়তান্ত্রিক ও হটকারী পদ্ধতিতে সহিংসতা কিংবা চরমপন্থার কোনো পথকে ইসলামী পথ বলে মনে করি না। গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পদ্ধতির ভেতর থেকেই আমরা রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাই।’
মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা কামরুল আহসান এমরুলের সভাপতিত্বে এবং মহানগর সেক্রেটারি শহীদুল্লাহ কায়সারের সঞ্চালনায় সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল করিম, মহানগর নায়েবে আমির আসাদুজ্জামান সোহেল, আনোয়ার হাসান সুজন, সহ-সেক্রেটারি মাহবুবুল হাসান শামীম, সাংগঠনিক সম্পাদক আল হেলাল তালুকদার ও বায়তুলমাল সম্পাদক গোলাম মহসীন খান।
সম্মেলনে নেতারা দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করা, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং নির্বাচন-পরবর্তী করণীয় বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন। বক্তারা দাবি করেন, গণতন্ত্রের স্বার্থে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি এবং ভোটের ফলাফল নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।