কক্সবাজারের রামুতে একটি ভাড়া বাসা থেকে বেলাল উদ্দিন জিহাদ প্রকাশ বাদল (২৫) নামে এক যুবকের গলাকাটা ও অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে স্ত্রী তাহেরা বেগম আঁখি পলাতক রয়েছেন। বুধবার (৪ মার্চ) উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের পূর্ব মেরোংলোয়া এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত বাদল উপজেলার পূর্ব রাজারকুল ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপাড়া গ্রামের ব্যবসায়ী আবুল কাশেমের ছেলে। এ তাহেরা বেগম আঁখি রামুর খুনিয়াপালং এলাকার বাসিন্দা।
রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া জানান, বাদল ইজিবাইক চালক, স্বামী-স্ত্রী দুজনই টিকটকার হিসেবে পরিচিত। তারা ভাড়া বাসা থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে দেখে বিছানায় বাদলের গলাকাটা ও বীভৎস মরদেহ পড়ে রয়েছে।
ওসি আরও জানান, মরদেহের অবস্থা দেখে প্রাথমিক ধারণায় মনে হচ্ছে অন্তত তিন দিন আগে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
রাজারকুল ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (এমইউপি) স্বপন বড়ুয়া বলেন, ‘নিহত বাদলের স্ত্রী আগে বিবাহিত হওয়ায় জিহারে পরিবার এ বিয়ে মেনে নেয়নি। যার ফলে তারা আলাদা বাসা নিয়ে সংসার করছিলেন। কিছুদিন আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হলে সামাজিকভাবে আমরা বসে মীমাংসা করে দিয়েছিলাম।
তিনি বলেন, প্রাথমিক অবস্থায় মনে হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী আঁখি বাদলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে পালিয়ে গেছেন। গত তিন দিন ধরে আঁখির কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না এবং তার মোবাইল ফোনও বন্ধ।
ওসি বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পালিয়ে থাকা স্ত্রীকে আটক করা সম্ভব হলে হত্যার রহস্য জানা যাবে।