নরসিংদীর মাধবদীতে আমেনা ধর্ষণের রেশ কাটতে না কাটতেই ফোনে পরিচয় সূত্রে দেখা করতে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৪০ বছর বয়সী চার সন্তানের জননী। গত বৃহস্পতিবার রাতে মাধবদী থানার কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খামারদী পদ্মারকান্দার একটি মাছের খামারের পুকুর পাড়ে এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার সকালে ভুক্তভোগী নারী মাধবদী থানায় অভিযোগ দায়ের করলে বিকালে ঘটনায় জড়িত রিদয় মিয়া (৩২) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ভুক্তভোগী নারী নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানার গোপালদী গ্রামের বাসিন্ধা। বর্তমানে তিনি নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভার মেন্ডাতলা এলাকায় বসবাস করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ভুক্তভোগী নারী তার মেয়েকে নিয়ে আড়াইহাজার পৌরসভা এলাকার মার্কেটে ঈদের শপিং করতে যায়। মেয়েকে ঈদের জামা কিনে ইফতারের পূর্বেই বাসায় পাঠিয়ে দেয়। গত ৩ থেকে ৪ দিন আগে থেকেই কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খরিয়া গ্রামের রিদয় মিয়ার সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীর মোবাইল নাম্বারে কথাবার্তা হচ্ছিল। ভুক্তভোগী নারী আড়াইহাজার মার্কেটে এসেছে রিদয় জানতে পেরে দেখা করতে চায়। পরে ভুক্তভোগী নারী একাই অটো যোগে রাতে মাধবদী থানার কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খামারদী পদ্মারকান্দা এলাকায় যায়। সেখানে রাস্তায় রিদয়ের সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হলে রিদয় ভুক্তভোগী নারীকে রাস্তা থেকে পুকুর পাড়ের দিকে টেনে নিয়ে যায়। সেখানে ওৎ পেতে থাকা আরও অজ্ঞাতনামা ৩ জন ভুক্তভোগী নারীকে পুকুর পাড়ে ফেলে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে।
পরে ভুক্তভোগী নারীর মোবাইল ও টাকা কেড়ে নিয়ে আসামীরা তাকে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বলে। পরে ওই নারী তাৎক্ষনিক দৌড়ে পাশেই থাকা একটি পাওয়ার লোম কারখানায় গিয়ে আশ্রয় নেয় এবং তাদের ঘটনার বিষয়টি জানায়। পরে ভুক্তভোগী নারী মাধবদী থানায় বিষয়টি জানালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এঘটনায় মামলা দায়েরের পর তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় রিদয় মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর সীমান্তবর্তী এলাকায় ঘটেছে। প্রথমে ভুক্তভোগী নারী আড়াইহাজার থানাকে জানালে তারা ঘটনাস্থলে এসে নরসিংদীর মধ্যে ঘটনা হওয়ায় আমাদের জানালে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এঘটনায় ভুক্তভোগী কারো নাম বলতে পারেনি ও শুধু মোবাইলের নাম্বারের সূত্র ধরে অভিযুক্ত রিদয়কে আমরা গ্রেপ্তার করি। সে প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বাকিদের পরিচয়ও শনাক্ত করেছি। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যহত রয়েছে। ইতিমধ্যে ভুক্তভোগী নারীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। আসামিকে আগামীকাল আদালতে পাঠানো হবে।’