কুমিল্লায় রেলক্রসিংয়ে উঠে পড়া একটি বাসের সঙ্গে ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত ২টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। রোববার সকালে ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মমিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এ ঘটনায় দুই গেটম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকৃত দুই গেটম্যান হলেন- মেহেদী হাসান এবং হেলাল উদ্দিন।
চট্টগ্রাম বিভাগের ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে গেটম্যানের সঙ্গে ট্রেনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতাকে কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাই পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে কর্মরত দুই গেটম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সেখানে নতুন করে গেটম্যান দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দুর্ঘটনার সঠিক কারণ বের করতে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। একটি বিভাগীয় এবং অপরটি আঞ্চলিক। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।’
প্রসঙ্গত, শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় মামুন পরিবহন নামের একটি যাত্রীবাহী বাসকে ধাক্কা দেয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার দিকে যাওয়া মেইল ট্রেন। এই ধাক্কায় বাসটিকে অন্তত আধা কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায় ট্রেনটি।
এতে প্রথমে ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ জনে। ঘটনার পর চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে প্রায় চার ঘণ্টা পর রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় দুটি আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ট্রেনটিকে উদ্ধার করতে আখাউড়া থেকে রিলিফ ট্রেন আনা হয়েছে।