কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে মাত্র ৬ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের কসবা গ্রামের খালপাড়া এলাকায় দফায় দফায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুছাম শেখের দাদির রেখে যাওয়া মাত্র ৬ শতাংশ জমি নিয়ে তার চাচাতো ভাই মৃত আতাহার শেখের ছেলে হাবিল শেখের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। জমিটি বর্তমানে হাবিল শেখের দখলে রয়েছে এবং তিনি তা সম্প্রতি বিক্রির চেষ্টা করেন। কিন্তু বৈধ কাগজপত্র না থাকায় বিক্রি প্রক্রিয়া থমকে যায়।
বিষয়টি জানাজানি হলে মুছাম শেখ নিজের অংশ দাবি করে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। শনিবার সকালে মুছাম শেখ লোকজন নিয়ে জমি মাপতে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। রাতের দিকে তা চরম আকার ধারণ করে। লাঠি, ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে দুই পক্ষে অন্তত ১৬ জন আহত হন।
আহতরা হলেন- মুছাম শেখের পক্ষে মুছাম শেখ (৫০), পরান শেখ (২২), মজনু প্রামাণিক (৪৬), ইমন প্রামাণিক (২০), সুমন প্রামাণিক (২২), আশিকুর রহমান (২৭), নাজমুল হোসেন (৩২) ও রিশাদ আলী (১৯)।
অপরদিকে হাবিল শেখের পক্ষে আহতরা হলেন-লিপি খাতুন (৪৫), আসিফ (২২), রাশিদা খাতুন (৩৭), ফারুক শেখ (৩৫), সিজানুর রহমান (২২), আসিফ হোসেন (২৩), শাহিন শেখ (৩০) ও আকাশ হোসেন (২৩)।
আহতরা বর্তমানে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ বিষয়ে হাবিল গ্রুপের সিজানুর রহমান বলেন, মুছাম শেখ দলবল নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমাদের আটজনকে আহত করেছে।
তবে মুছাম শেখের ভাই মজনু প্রামাণিক বলেন, ‘জমির কাগজ আমাদের নামে থাকলেও হাবিল তা বুঝিয়ে দিচ্ছে না। রাতে আলোচনার কথা থাকলেও তার আগেই তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়।’
বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জামাল উদ্দিন নাগরিক প্রতিদিন-কে জানান, ‘সামান্য জমি নিয়ে আত্মীয়দের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’