হ্রদের বুকে ভাসমান রাঙামাটির সমতাঘাট এখন তরমুজের বাজারে পরিণত হয়েছে। চারদিকে শুধু তরমুজ আর তরমুজ কিন্তু নেই সেই অনুপাতে ক্রেতা। ফলে হঠাৎ করেই দামে নেমেছে বড় ধরনের পতন। রমজান মাসে যে তরমুজ ১৫০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, এখন তা ৪০ থেকে ১২০ টাকায় নামতে বাধ্য হয়েছে।
শহরের বনরূপা বাজারসংলগ্ন সমতাঘাটে গিয়ে দেখা যায়, নৌকা ভর্তি তরমুজ নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে আছেন কৃষক ও পাইকাররা। বিক্রি কম হওয়ায় অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরছেন। বাইরের জেলা থেকে পাইকারি ক্রেতা না আসায় বাজারে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে রাঙামাটিতে প্রায় ৭ হাজার ২০০ মেট্রিক টন তরমুজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ায় ফলন ভালো হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়ে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দামে।
স্থানীয় পাইকারি ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘এখন তরমুজ কিনে বিক্রি করাই ঝুঁকির। ২০০ পিস কিনে আনলে অন্তত ২০-৩০টা নষ্ট হয়ে যায়। যে দামে কিনছি, সেই দামে বিক্রিও করতে পারছি না। লাভ তো দূরের কথা, পুঁজি বাঁচানোই কঠিন হয়ে গেছে।’
বিলাইছড়ি উপজেলা থেকে তরমুজ নিয়ে আসা কৃষক রতন তঞ্চঙ্গ্যা জানান, ‘এবার প্রায় ৬০০ থালা তরমুজ চাষ করেছি। শুরুতে ভালো দাম পেলেও এখন বাজারে এসে হতাশ হতে হচ্ছে। ১৫০ টাকা চাইলেও কেউ ৯০-১০০ টাকার বেশি দেয় না। খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছি।’
অন্যদিকে পাইকারি বিক্রেতা নুরুল আমিন বলেন, ‘তেল সংকটের কারণে পরিবহন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। আগে যেসব বড় পাইকার বাইরে থেকে আসত, এখন তারা আসে না। তাই স্থানীয় বাজারেই সব বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে চাহিদা কমে গেছে, দামও পড়ে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অনেক সময় বাগান থেকে আগেই চুক্তিতে তরমুজ কিনে ফেলি। তখন বাজার ভালো থাকে। কিন্তু এখন সেই তরমুজ বিক্রি করতে গিয়ে বড় লোকসানে পড়তে হচ্ছে।’
রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ভালো আবহাওয়ার কারণে এ বছর তরমুজের ফলন আশানুরূপ হয়েছে। আগাম চাষিরা ভালো দাম পেয়েছেন। তবে বর্তমানে বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ থাকায় দাম কমে গেছে, যা মৌসুমি বাজারে স্বাভাবিক বিষয়।
তিনি জানান, আর মাত্র কয়েকদিন এই তরমুজের মৌসুম থাকবে। এরপর ধীরে ধীরে বাজারে সরবরাহ কমে আসবে এবং দাম কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে।