কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের একটি ‘গোপন আস্তানা’য় অভিযান চালিয়ে রোহিঙ্গা নারীসহ ১৩ জনকে উদ্ধার করেছে র্যাব। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) মধ্যরাতে টেকনাফ উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ লম্বরী এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক (আইন ও গণমাধ্যম) ও সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন, দক্ষিণ লম্বরী এলাকার একটি বসতঘরে সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্র সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে কিছু লোকজনকে জড়ো করেছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে মধ্যরাতে র্যাবের একটি দল ওই বাড়িটি ঘিরে ফেলে। এ সময় র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ৫-৬ জন পাচারকারী পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তাদের ধাওয়া করা হলেও কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে মরিয়ম বেগম নামের এক নারীর ঘরে তল্লাশি চালিয়ে নারীসহ ১৩ জনকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন ৬ জন বাংলাদেশি পুরুষ, ৪ জন রোহিঙ্গা পুরুষ এবং ৩ জন রোহিঙ্গা নারী। তারা উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বরাতে র্যাব জানায়, মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা মালয়েশিয়ায় পাঠানোর মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে তাদের জড়ো করে। পরে কয়েকদিন ধরে তাদের জিম্মি রেখে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছিল।
র্যাব কর্মকর্তা আ. ম. ফারুক জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের কাছে ফেরত পাঠানোর জন্য তাদের টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।