কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের বড় মাজগ্রামে সাউন্ড বক্স ও মাইক (গান-বাজনা) ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারির ঘটনা ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেউ এ নির্দেশনা অমান্য করলে তাকে সামাজিকভাবে বয়কট করা হবে, এমনকি কবরস্থানে দাফন করতে দেওয়া হবে না।
গত বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী মাইকিং করে এ ঘোষণা প্রচার করা হয়। বিষয়টি নিয়ে গ্রামজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একাংশ এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন করলেও অন্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা ওয়ালীউল্লাহ ফরিদী জানান, গত শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে কমিটির বৈঠকে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গ্রামের কোনো বাড়িতে উচ্চ শব্দে সাউন্ড বক্স বা মাইক বাজানো হলে সংশ্লিষ্টদের ঈদগাহ, মসজিদ ও কবরস্থানের কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি এক খৎনা অনুষ্ঠানে সাউন্ড বক্স বাজানোকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এরপরই বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হলে মসজিদ কমিটি এ সিদ্ধান্ত নেয়।
এদিকে, মাইকিংয়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
অনেকেই বলছেন, দেশের প্রচলিত আইনে এভাবে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সাউন্ড বক্স বা গান-বাজনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে পারে না।
অন্যদিকে, বড় মাজগ্রাম জামে মসজিদের সভাপতি আমির হোসেন বলেন,সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং উচ্চ শব্দ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে মাইকিংয়ে ঠিক কী প্রচার হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলেও জানান।
কুমারখালীর সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কবি ও নাট্যকার লিটন আব্বাস নাগরিক প্রতিদিন-কে বলেন, কারও ওপর কিছু চাপিয়ে দেওয়ার অধিকার কারও নেই। এটি ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী।
এ ব্যাপারে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন নাগরিক প্রতিদিন-কে বলেন, প্রচলিত আইনে এভাবে গান-বাজনা নিষিদ্ধ করার সুযোগ নেই।