চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে ৪ শিশুসহ ৮ বাংলাদেশিকে ভারতে পাচারের চেষ্টাকালে উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রতারক চক্রটি এদের সর্বস্ব লুটে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় জীবননগর থানা পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উদ্ধার ব্যক্তিরা নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানার দোহা মল্লিকপুর গ্রামের বাসিন্দা। তারা পূর্বে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে বসবাস করত এবং কয়েক মাস আগে দেশে ফিরে আসেন। পুনরায় ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তারা যশোর ও চুয়াডাঙ্গার একটি দালাল চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
দালালরা তাদের ভারতে কার্টুন তৈরির ভালো কাজের প্রলোভন দেখায় এবং বিনিময়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা চুক্তি করে। রোববার (৫ এপ্রিল) ভোরে সীমান্ত পার করে দেওয়ার কথা বলে জীবননগর থানাধীন বেনীপুর এলাকায় নিয়ে আসা হয়।
রাত আনুমানিক ৩টার দিকে সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থানকালে দালাল ফারুক হোসেন ও ইসরাফিল হোসেন তাদের ভারতে প্রবেশ না করিয়ে কৌশলে তাদের সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এসময় বাধা দিলে রাকিব মোল্লাকে বেধড়ক মারধর করে দালালরা পালিয়ে যায়। ঘটনাটি জীবননগর থানা পুলিশ জানতে পেরে একটি অভিযান চালায়।
অভিযানে ঘটনার সঙ্গে জড়িত বেনীপুর মাঠপাড়ার ইসরাফিল (৩২) ও উজ্জ্বল হোসেন (৪০) নামের দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।
এসময় নড়াইল জেলার বাসিন্দা রাকিব মোল্লা (৩৭), নাইস মিনা খানম (৩০), লিমন মোল্লা, সাথী খাতুন (২৫), শিশু রিহান, ফাতেমা, ফারিয়া ও ইসমাইলকে উদ্ধার করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান জানান, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি, দালাল চক্র চার শিশুসহ আটজনকে ভারতে পাচার করবে। তাৎক্ষনিক জীবননগর থানাকে ভিকটিম উদ্ধারের নির্দেশ দেওয়া হলে জীবননগরের বেনীপুর সীমান্ত থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। দালাল চক্রের দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মানবপাচার আইনে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।’