বগুড়া-৬ উপনির্বাচন
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) অনুষ্ঠিতব্য বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনকে সামনে রেখে রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল। তিনি দাবি করেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন এবং একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষে কাজ করছেন।
বুধবার দুপুরে শহর জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। লিখিত বক্তব্যে আবিদুর রহমান সোহেল বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের প্রত্যাশায় তারা উপনির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তবে নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশ ক্রমেই কলুষিত ও ভীতিকর হয়ে উঠছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন নিয়োগপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের পরিবর্তে একটি দলের পক্ষে নীরবে সহায়তা করছেন। একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি কয়েকটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেন—
পক্ষপাতদুষ্ট প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ
রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে এমন ব্যক্তিদের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যারা সরকারি দলের সক্রিয় সমর্থক বা পদধারী বলে অভিযোগ করেন তিনি। ১৫০টি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তার তালিকা ১০ দিন আগে চাওয়া হলেও তা সরবরাহ করা হয়নি। পরবর্তীতে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ১৬ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রমাণসহ অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তাদের আচরণবিধি লঙ্ঘন
মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সরকারি দলের প্রার্থীর পক্ষে মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগ করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ভোটার ও নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন
গ্রামে গ্রামে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং ভোটকেন্দ্রে না যেতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন জামায়াত প্রার্থী।
এ সময় নির্বাচন কমিশনের প্রতি সাত দফা দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরেন আবিদুর রহমান সোহেল। এর মধ্যে রয়েছে— পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচনী কর্মকর্তাদের অপসারণ, সিসি ক্যামেরার আওতায় ভোটগ্রহণ, পোলিং এজেন্টদের তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা, কেন্দ্রের আশপাশে প্রভাব বিস্তার বন্ধ, অবৈধ অর্থ বিতরণ ঠেকাতে নজরদারি জোরদার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকা এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
ভোট বর্জনের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশায় অংশ নিয়েছি। ভোট বর্জনের কোনো ইচ্ছা নেই। জনগণ যেন তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে, সেটিই আমরা চাই। নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা প্রমাণ করে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেবে— এটাই প্রত্যাশা।’
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিনসহ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।