গাজীপুরের শ্রীপুরে ঝর্ণা আক্তার (১৬) নামের এক কিশোরীকে হত্যা করেছে তার স্বামী। ঘটনার পর ঘরের ভেতরে মরদেহ রেখে বাইরে থেকে তালা দিয়ে পালিয়ে গেছে অভিযুক্ত স্বামী অপু আহমেদ (১৮)। শনিবার (১১ এপ্রিল) রাত প্রায় ১১টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা (জংলাপাড়া) এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে পুলিশ ঝর্ণার মরদেহ উদ্ধার করে।
জানা যায়, নিহত ঝর্ণা আক্তার শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা গ্রামের মো. হামিদুল ইসলামের মেয়ে। প্রায় দুই বছর আগে পরিবারের অমতে প্রেমের সম্পর্কের জেরে অল্প বয়সে অপুকে বিয়ে করেন তিনি। পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় বিয়ের পর থেকেই স্বামীর সঙ্গে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন ঝর্ণা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ লেগে থাকত। ঘটনার দিন সন্ধ্যার দিকে অপু তার পরিচিত এক প্রতিবেশীকে ফোন করে জানায়, ঘরের ভেতর ঝর্ণার মরদেহ পড়ে আছে এবং বিষয়টি যেন তার বাবাকে জানানো হয়। পরে বিষয়টি বাড়ির মালিককে জানানো হলে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
বাড়ির মালিকের স্ত্রী লাভলী খাতুন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ এসে তালাবদ্ধ ঘর খুলে মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার পর থেকেই অপু পলাতক রয়েছে।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ জানান, প্রাথমিক সুরতহালে মরদেহে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তাকে শ্বাসরোধ বা বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।