মাগুরার মহম্মদপুরে মাদক উদ্ধার অভিযানের নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুকে ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নিহত আকুব্বর (৩৭)-এর পরিবারের অভিযোগ, এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়-নির্মম পিটুনিতে তাকে হত্যা করা হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) উপজেলার বিনোদনপুর ইউনিয়নের কানুটিয়া চরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) একটি দল আকুব্বরের বাড়িতে অভিযান চালালে পরিস্থিতি দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। নিহতের স্ত্রী জোছনা খাতুনের দাবি, অভিযানের নামে আমার স্বামীকে বেধড়ক পেটানো হয়েছে, আর তাতেই তার মৃত্যু হয়েছে। তার এই অভিযোগে ঘটনাটি আরও গুরুতর রূপ নিয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মাদক সংক্রান্ত অভিযোগে আকুব্বরকে আটক করতে গেলে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে লাঠিপেটা করা হয় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
যদিও অভিযানে অংশ নেওয়া ডিএনসি সদস্যদের দাবি, তাকে হাতকড়া পরানোর পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। অভিযানের সময় ডিএনসির সিপাহী মিঠুন ব্যাপারিও আহত হন। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্যদের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি রীতিমতো নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার উপক্রম হয়। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট সদস্যদের মহম্মদপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ডিএনসির উপপরিদর্শক মোছা. সাহারা ইয়াসমিন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আকুব্বরের ঘর থেকে প্রায় ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। তাকে আটকের পর অসুস্থ হয়ে পড়লে মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাদিয়া সাকিনা ঝরা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে এবং শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রকৃত কারণ জানতে ময়না তদন্তের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।
এদিকে মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিরাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।