ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনীতিতে এক চমকপ্রদ ও বিরল ঘটনা ঘটেছে। জেলার বিজয়নগর উপজেলার মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দা নাখলু আক্তারের মেয়ে নাদিয়া পাঠান পাপন বিএনপি থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য পদে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। রাজনৈতিক ভিন্ন মতাদর্শের এমন সহাবস্থান এখন পুরো জেলায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সৈয়দা নাখলু আক্তার বিজয়নগর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি। তিনি জেলা পরিষদের সদস্য ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্যদিকে, তার মেয়ে নাদিয়া পাঠান পাপন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির একজন সক্রিয় সদস্য। সাম্প্রতিক জুলাই অভ্যুত্থানেও তিনি রাজপথে সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন।
মেয়ের এই সাফল্যে মা সৈয়দা নাখলু আক্তার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘রাজনীতি নিয়ে আমাদের মা-মেয়ের মধ্যে কখনো কোনো মতানৈক্য হয়নি। সে ঢাকাতেই রাজনীতি করেছে। মেয়ে এমপি হতে যাচ্ছে- একজন মা হিসেবে আমার যে অনুভূতি হওয়ার কথা, ঠিক সেটাই হচ্ছে।’
তিনি আরও জানান যে, বর্তমানে তিনি নিজে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে আছেন।
নাদিয়া পাঠান পাপন দীর্ঘ দুই দশক ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ২০০০ সালে চান্দুরা ইউনিয়ন ছাত্রদলের মাধ্যমে তার রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয়। এরপর বদরুন্নেসা কলেজে পড়ার সময় তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্ররাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। দলটির কঠিন সময়েও তিনি রাজপথ ছাড়েননি। ২০১৩, ২০১৫ এবং ২০১৭ সালে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি একাধিকবার পুলিশের লাঠিচার্জ ও হামলার শিকার হয়েছিলেন।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা থাকলেও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারাও পাপনের এই অর্জনে অভিনন্দন জানিয়ে বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর মৃধা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছু নেই। বিজয়নগরের সন্তান হিসেবে আমি উনাকে অভিনন্দন জানাই।’
একই পরিবারে দুই দলের শীর্ষ পর্যায়ের এমন অবস্থানের বিষয়টি স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝেও বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে একে রাজনৈতিক সহনশীলতার সুন্দর উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।