গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর এলাকায় সংরক্ষিত বনভূমি দখলকে কেন্দ্র করে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বনভূমি রক্ষায় বন বিভাগের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে তার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ উঠেছে, বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের যোগসাজশের কারণে বনভূমি দখলের প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
দখলকারীরা বালি ও মাটি ফেলে বনভূমি ভরাট করে জবরদখল করলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা রহস্যজনক বলে দাবি এলাকাবাসীর।
জানা গেছে, কাশিমপুরের গোবিন্দবাড়ী মৌজার গজারি বন শ্রেণীর সংরক্ষিত বনভূমির ২নং খতিয়ানের আরএস ৩১৫ নম্বর দাগের প্রায় ২৫ শতাংশ জমি দখলের চেষ্টা চলছে। বনভূমির গাছ কেটে এবং জমি ভরাট করে সেখানে স্থায়ী দখল নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, বিএনপির নাম ব্যবহার করে কে এম হাফিজুর রহমান রাজু ও দুলাল মন্ডলসহ একটি প্রভাবশালী চক্র জমিটি দখলের চেষ্টা করছে। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এদিকে বিষয়টি ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তার নজরে এলে কাশিমপুর বিট কর্মকর্তা চান মিয়া দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেন। প্রাথমিকভাবে ভরাট কার্যক্রম বন্ধ করা হলেও অভিযোগ রয়েছে, রাতের আঁধারে আবারও বালি ফেলে জমি দখল করা হয়েছে। এতে প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এভাবে অবৈধ দখল চলতে থাকায় বনভূমি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, যা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। তারা অবিলম্বে দখল উচ্ছেদ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বশিরুল আল-মামুন বলেন, ‘জবরদখলের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুতই বনভূমি উদ্ধার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’