জন্ম থেকেই দুই চোখে আলো নেই। তবুও থেমে থাকেনি শরীফ আলীর পথচলা। অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম এবং স্বপ্নকে সঙ্গী করে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে এই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী। দৃষ্টিশক্তির সীমাবদ্ধতা তার শিক্ষাজীবনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি; বরং সেই সীমাবদ্ধতাকে জয় করেই এগিয়ে যাচ্ছে সে।
শরীফ আলী ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি শহরের গোবিন্দনগর মুন্সিরহাট মহল্লায়। তার বাবা রমজান আলী পেশায় একজন ইজিবাইকচালক। সীমিত আয়ের পরিবার হলেও ছেলেকে শিক্ষিত করার ব্যাপারে পরিবারের দৃঢ় প্রত্যয় ছিল শুরু থেকেই। পরিবারের সদস্যদের মুখে মুখে পাঠ শুনে শেখার মধ্য দিয়েই তার শিক্ষাজীবনের সূচনা।
পরবর্তীতে স্থানীয় গোবিন্দনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ২০২১ সালে ভর্তি হন ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে। ধারাবাহিকভাবে পড়াশোনা চালিয়ে এবার তিনি এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রথম দিনে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নেন শরীফ। পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। নিজে লিখতে না পারায় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একজন শ্রুতলেখকের সহায়তায় পরীক্ষা দিচ্ছেন তিনি।
শরীফের শ্রুতিলেখক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সদর উপজেলার মুন্সিরহাট এলাকার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী শায়লা আক্তার (১৫)। শুরুতে শ্রুতিলেখক না পাওয়ায় অনিশ্চয়তায় পড়েছিলেন শরীফ। পরে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে শায়লা স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসেন। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি শ্রুতিলেখকের দায়িত্ব পালন শুরু করেন।
পরীক্ষা শুরুর আগে শায়লা আক্তার বলেন, ‘আমার হাতের লেখায় যদি শরীফ ভাই ভালো ফল করতে পারেন, সেটাই হবে আমার সবচেয়ে বড় তৃপ্তি।’
অন্যদিকে শরীফ আলী বলেন, ‘মা-বাবা আমার চোখের চিকিৎসার জন্য অনেক চেষ্টা করেছেন। আমি লেখাপড়া করে চাকরি করতে চাই, যাতে তাদের ভালোভাবে রাখতে পারি।’
কেন্দ্র সচিব ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শাহানুর বেগম চৌধুরী জানান, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি ঘণ্টায় ১৫ মিনিট অতিরিক্ত সময়সহ প্রয়োজনীয় সব সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহীন আক্তার জানান, এ বছর জেলায় মোট ৩৯টি কেন্দ্রে ২৩ হাজার ২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি দাখিল ও কারিগরি শিক্ষারা।