কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় এক কুলির ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগে নির্মিত একটি কাঠের সেতু বদলে দিয়েছে কয়েক গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা। দীর্ঘ প্রায় দুই যুগের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে এই সেতুটি এখন স্থানীয়দের জন্য স্বস্তির নতুন পথ হয়ে উঠেছে।
উলিপুর উপজেলা পৌরসভার জোনাইডাঙ্গা ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল করিম নিজের সীমিত সামর্থ্যকে কাজে লাগিয়ে প্রায় অসম্ভব এক কাজ বাস্তবায়ন করেছেন। প্রায় ২৫ বছরের কষ্টার্জিত সঞ্চয়, একটি মোটরসাইকেল ও একটি খাসি বিক্রির অর্থ এবং কিছু ঋণ মিলিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয়ে তিনি নির্মাণ করেন ১২০ ফুট দীর্ঘ একটি কাঠের সেতু।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এতোদিন এই এলাকার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা ছিল উলিপুর রেলস্টেশনের পাশের পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ রেলসেতু। সেটি ব্যবহার ছিল অত্যন্ত বিপজ্জনক। প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে মানুষকে চলাচল করতে হতো।
বিশেষ করে শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী ও দিনমজুরদের জন্য এই পথ ছিল চরম ভোগান্তির। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠত, অনেক সময় পা পিছলে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
এখন নতুন নির্মিত কাঠের সেতুর কারণে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ নিরাপদ ও সহজে চলাচল করতে পারছেন। এটি তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে।
গত শুক্রবার সেতুটির উদ্বোধন করা হয় আব্দুল করিমের মায়ের হাত দিয়ে। এ উপলক্ষ্যে সেতুর নিচে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়, যেখানে হাজারো মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় পুরো এলাকায় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং সবাই তার এই উদ্যোগের আন্তরিক প্রশংসা করেন।
এ বিষয়ে আব্দুল করিম বলেন, ‘এখানকার রেল ব্রিজটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। মানুষকে প্রতিদিন কষ্ট করে যাতায়াত করতে দেখতাম। অনেক সময় দুর্ঘটনাও ঘটত। অনেক জনপ্রতিনিধি আসলেও কেউ উদ্যোগ নেয়নি। তাই অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল এখানে একটি সেতু নির্মাণ করবো। কুলির কাজের টাকা, মোটরসাইকেল বিক্রি, খাসি বিক্রি ও ঋণের মাধ্যমে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছি।’
স্থানীয়দের মতে, আব্দুল করিমের এই উদ্যোগ শুধু একটি সেতু নির্মাণ নয়, বরং মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।