‘১৩ বছরেও আমার ছেলের খোঁজ মিলেনি। সাভার অধর চন্দ্র স্কুল ও বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়ে খোঁজ করতাম প্রতিদিন। এই বুঝি আমার ছেলেকে খুঁজে পাব। কিন্তু এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতাল গিয়ে লাভ হয়নি। সাভার অধর চন্দ্র স্কুলের মরদেহের সারিতে গিয়ে অনেক মরদেহ দেখেছি। কিন্তু আমার ছেলের মরদেহে পাইনি’-কান্না জড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন রানা প্লাজায় নিখোঁজ সুরুজের মা জোসনা বেগম।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে ধসে পড়া রানা প্লাজার সামনে এসে ছেলে সুরুজের কথা স্মরণ করে জোসনা বেগম এভাবে কান্নায় ভেঙে পড়েন। নিখোঁজ সুরুজ মিয়া সাভার পৌর এলাকার সিআরপি মহল্লার মৃত হোসেন আলীর ছেলে।
জোসনা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে রানা প্লাজার ৬ষ্ঠ তলায় নিউ ওয়েভ স্টাইল লিমিটেড নামে পোশাক কারখানায় ফিনিশিং অপারেটর পদে চাকরি করতেন। ২৩ এপ্রিল রানা প্লাজায় ফাটল দেখা দেয়। পরের দিন আমার ছেলে চাকরিতে যেতে চায়নি। কিন্তু মালিকপক্ষ চাকরিতে না গেলে বেতন দেবে না বলে জানায়। পরে বাধ্য হয়েই আমার ছেলে সকালে কারখানায় যায়। রানা প্লাজা ভাঙার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে এখানে আসি। অনেকেই জীবিত উদ্ধার হয় আবার অনেকের মরদেহও উদ্ধার হয়। কিন্তু আমার ছেলের কোনো খোঁজ পাইনি। এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে গিয়েছি। কিন্তু আমার ছেলের খোঁজ পায়নি। সাভার অধর চন্দ্র স্কুলে রানা প্লাজার নিহতদের মরদেহ রেখেছিল। সেখানে একটি মরদেহ আসতো আর দৌড়ে গিয়ে দেখতাম। কিন্তু আমার ছেলের মরদেহ পাইনি’-বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
নিখোঁজ সুরুজের ভাই সুজন মিয়া বলেন, ‘রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু আজও আমার ভাইয়ের স্মৃতি ভুলতে পারিনি। ২৪ এপ্রিল সকালে লাল গেঞ্জি, সাদা-কালো চেক শার্ট আর কালো প্যান্ট পড়ে কারখানায় গিয়েছিল। ভবন ভাঙার খবর পেয়ে হেঁটে হেঁটে রানা প্লাজার সামনে আসি। আমার ভাই যে ফ্লোরে কাজ করতো সেই ফ্লোরে উদ্ধার কর্মী সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের নিয়ে উদ্ধারের জন্য অনেকবার বলেছি। কিন্তু তারা শুধু বলেছে, আমরা অক্সিজেন, খাবার এবং পানি দিচ্ছি। কিন্তু উদ্ধার আর করেনি। দিনের পর দিন পার হয়েছে কিন্তু আমার ভাইয়ের আর খোঁজ পাইনি।’
উল্লেখ, ২০১৩ সালে সকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে ৯ তলা বিশিষ্ট রানা প্লাজা ভবন ধসে পড়ে। এতে রানা প্লাজা ধসে ১ হাজার ১৩৬ জন পোশাক শ্রমিক নিহত হয়। এছাড়া প্রায় আড়াই পোশাক শ্রমিক পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।