তীব্র দাবদাহের মধ্যে বিদ্যুৎ সংকটে কার্যত পঙ্গু হয়ে পড়েছে মাগুরার জনজীবন। বাতাস নেই, আলো নেই-ফলে অচল হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। দোকানপাটে নেই ক্রেতা, ফ্যান-ফ্রিজ বন্ধ, অন্ধকারে কাটছে দীর্ঘ সময়। তাই লোডশেডিং এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং স্থায়ী দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।
জ্বালানি সংকটের প্রভাবে হঠাৎ বেড়েছে লোডশেডিংয়ের মাত্রা। শহর থেকে গ্রাম-কোথাও নেই নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, যেখানে দিনে ৮-১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না।
মাগুরা ওজোপাডিকো নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ঘোষ জানান, মাগুরা শহরে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা প্রায় ১৮ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ১২ মেগাওয়াট, কখনো তা নেমে আসছে ৯ মেগাওয়াটে।
মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. মহিতুল ইসলাম জানান, মাগুরায় পল্লী বিদ্যুতের চাহিদা ৫৫ মেগাওয়াট। চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মাত্র ১৬ মেগাওয়াট। রাতেও ঘাটতি কাটছে না; গড়ে ৪৫ মেগাওয়াট সরবরাহে প্রায় ২০ শতাংশ ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে।
এদিকে লোডশেডিংয়ের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের ওপর। এসএসসি পরীক্ষার্থীরা পড়ালেখায় চরম বিঘ্ন ঘটছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ না থাকায় সন্তানদের পড়ালেখা ব্যাহত হচ্ছে, রান্নাবান্না পর্যন্ত করা যাচ্ছে না। অনেক শিক্ষার্থী না খেয়েই পরীক্ষায় অংশ নিতে যাচ্ছে-যা উদ্বেগজনক।
ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেমে এসেছে স্থবিরতা। শহরের ব্যবসায়ীরা বলছেন, দিনে গড়ে ৩-৪ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ মিলছে না। এতে দোকান খোলা রাখা দায় হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ী ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ বলেন, বিদ্যুৎ আসে, আবার মুহূর্তেই চলে যায়। এক ঘণ্টা থাকে তো দুই ঘণ্টা থাকে না। এই অবস্থায় ব্যবসা চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আরেক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রতিদিন একই অবস্থা। দিনে তিন-চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাই। সারাদিনে ২০০-৩০০ টাকা আয় হয়-এই টাকায় দোকান ভাড়া দেব না সংসার চালাব? আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি।’
কৃষিখাতে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় ধান চাষ হুমকির মুখে। পাকার মৌসুমে পানির অভাবে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। কৃষক আব্দুল খালেক বলেন, ‘জ্বালানি তেলের সংকট আর বিদ্যুতের সংকট-এইভাবে চলতে থাকলে আমরা বড় ক্ষতির মুখে পড়ব। তেল, বিদ্যুৎ না পেলে ফসল ফলাব কীভাবে? চরম দুশ্চিন্তায় আছি।’