চুয়াডাঙ্গায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ক্ষতিকর রং ও ফ্লেভার মিশিয়ে আইসক্রিম তৈরি, সংরক্ষণ ও বিক্রির অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ সময় একটি আইসক্রিম কারখানাকে জরিমানা করা হয়েছে এবং কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৩ মে) দুপুরে আলমডাঙ্গা উপজেলার হাউসপুর এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানে অননুমোদিত রং ও ফ্লেভার ব্যবহার, লাইসেন্সবিহীন উৎপাদন এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুতের প্রমাণ পাওয়া যায়। এসব অপরাধে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৪৩ ধারায় মো. সাজেদুর রহমানের মালিকানাধীন ‘লোটাস সুপার আইসক্রিম’ প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ সময় কারখানায় সংরক্ষিত অননুমোদিত উপকরণ দিয়ে তৈরি সাত ফ্রিজ আইসক্রিম জব্দ করে জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়। একইসঙ্গে যথাযথ লাইসেন্স গ্রহণ না করা পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির সব কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সজীব পাল, ক্যাব প্রতিনিধি মো. রফিকুল ইসলাম এবং জেলা পুলিশের একটি দল।
অভিযান চলাকালে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা পরিবার নিয়ে এসব আইসক্রিম খাই। যদি এতে ক্ষতিকর রং ব্যবহার করা হয়, তাহলে তা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান দরকার, যাতে ব্যবসায়ীরা সতর্ক থাকে।’
সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্সটিও নবায়ন করা নেই। ক্যামিকেলের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। অননুমোদিত রং ও ফ্লেভার ব্যবহার করে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আইসক্রিম তৈরি করা ভোক্তাদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করে। এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানটির মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং কার্যক্রম সাময়িক বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।