সরকার গণভোটের রায় নিয়ে যেমন প্রতারণা করছে, তেমনি উন্নয়নের ক্ষেত্রে ব্যাপক বৈষম্য করছে। একইসঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে জনমতকে দাবিয়ে রাখার অপচেষ্টাও চালাচ্ছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এমন মন্তব্য করেছেন। শনিবার (৮ মে) সকাল সাড়ে ৮ টায় সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, প্রবাদ আছে যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ। এখন তা বাস্তবে দেখছি। বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে সেই ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। তাই ৭০ ভাগ জনমতকে উপেক্ষা করে প্রতারণায় মেতে উঠেছে।
তারা শুধু দেশবাসীর সাথেই প্রতারণা করছেনা, বরং নিজের সঙ্গেও করছেন। কারণ, নির্বাচনের আগে তারা হ্যাঁ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং ভোটও দিয়েছেন। এখন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবেন বললেও গণভোটের রায় মানছেন না। এটাই মহা প্রতারণা। এভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।
জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘আমরা সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের বিরোধিতা বা আপত্তি করিনা, বরং উৎসাহিত করি। কিন্তু, উন্নয়নের ক্ষেত্রে আঞ্চলিকতা বা সরকার দলীয় এমপিকে প্রাধান্য দেওয়াকে গ্রহণযোগ্য মনে করি না। বরং ন্যায্যতা ও সাম্যতার ভিত্তিতে উন্নয়ন করতে হবে।
সরকার এক্ষেত্রেও চরম বৈষম্য শুরু করেছে। বিএনপির নির্বাচিত তাই একটা এলাকায় একাধারে সিটি কর্পোরেশন, নতুন উপজেলা সৃষ্টি, বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করা হচ্ছে। অথচ সার্বিক গুরুত্ব বিবেচনা করে এসব উন্নয়ন ভিন্ন ভিন্ন স্থানে হওয়া উচিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘সেই ধারাবাহিকতায় সৈয়দপুর বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক করা সবচেয়ে যৌক্তিক। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এতে উত্তরাঞ্চলের আর্থ সামাজিক ক্ষেত্রে প্রকৃত উন্নয়ন সাধিত হবে। যা অবহেলিত বৃহত্তর রংপুর দিনাজপুর এলাকাকে সমৃদ্ধ করবে। এটাই এ অঞ্চলের জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি এবং অধিকারও বটে।’
এর আগে তিনি ঢাকা থেকে ইউএস বাংলা এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে সৈয়দপুরে এসে পৌঁছান। তার সফর সঙ্গী হিসেবে এসেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান ও সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী।
বিমানবন্দরে তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান নীলফামারী-৪ আসনের এমপি হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম, নীলফামারী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মনিরুজ্জামান জুয়েল। পরে তারা পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতের সৈয়দপুর উপজেলা আমীর শফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি আলহাজ্ব মাজহারুল ইসলাম, শহর আমীর শরফুদ্দিন খান, সেক্রেটারি মাওলানা ওয়াজেদ আলী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সৈয়দপুর শহর সভাপতি আব্দুল মোমিনসহ শতাধিক নেতা-কর্মী।