আবহাওয়া ও মাটির বিশেষ গুণের কারণে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় সাতক্ষীরায় এবারও আগেভাগেই আম পাকতে শুরু করেছে। জ্যৈষ্ঠ মাস আসার আগেই জেলার বাজারে উঠতে শুরু করেছে বিষমুক্ত গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ, বোম্বাই ও গোলাপখাসসহ স্থানীয় জাতের সুস্বাদু আম। সুসংবাদ হলো, গত বছরের মতো এবারও সাতক্ষীরার প্রায় ১০০ মেট্রিক টন আম বিদেশে রপ্তানি করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরার ৪ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী গত ৫ মে থেকে আম সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এ বছর জেলা থেকে ৪০০ কোটি টাকারও বেশি আম বিক্রি হবে। সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর বড় বাজারসহ কলারোয়া ও তালার বিভিন্ন বাজারে আমের সরবরাহ বাড়ছে।
বর্তমানে পাইকারি বাজারে মানভেদে প্রতি মণ গোবিন্দভোগ ও গোপালভোগ আম ১৪০০ থেকে ১৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা খুচরা বাজারে ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে।
তবে বাম্পার ফলন হলেও চাষিদের মনে রয়েছে কিছুটা শঙ্কা। ইসমাইল হোসেন নামে এক আম চাষি জানান, জেলায় কোনো বিশেষায়িত হিমাগার না থাকায় তারা অনেকটা বাধ্য হয়েই ব্যবসায়ীদের দেওয়া দামে আম বিক্রি করছেন। হিমাগার ও নির্দিষ্ট বিক্রয় কেন্দ্রের অভাবকে বড় সংকট হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বাগান মালিকরা।
অন্যদিকে, ফলন ভালো হওয়ায় আম ব্যবসায়ীরা আশাবাদী। সুলতানপুর বড় বাজারের ব্যবসায়ী কবির হোসেন জানান, বাজারে প্রচুর আমের সরবরাহ রয়েছে। দাম কিছুটা কম হলেও অধিক ফলনের কারণে শেষ পর্যন্ত চাষিরা লাভবান হবেন।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেন, ‘ভৌগোলিক বিশেষত্বের কারণে দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় সাতক্ষীরার আম আগেভাগে পাকতে শুরু করে। এই আগাম প্রাপ্যতার কারণেই বাজারে সাতক্ষীরার আমের চাহিদা অনেক বেশি, আর এর স্বাদও অতুলনীয়। আমরা আশা করছি, এবার জেলা থেকে ১০০ মেট্রিক টন আম বিদেশে রপ্তানি হবে এবং সামগ্রিকভাবে ৪০০ কোটি টাকার বেশি আম বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।’
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরার ৪ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে প্রায় ৭০ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আমের সুনাম ধরে রাখতে এবং ভোক্তাদের কাছে বিষমুক্ত ও নিরাপদ আম পৌঁছে দিতে আমরা বাগানগুলোতে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছি।’
ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ১৫ মে থেকে হিমসাগর, ২৭ মে ল্যাংড়া এবং ৫ জুন থেকে আম্রপালি আম সংগ্রহের কাজ শুরু হবে। সাতক্ষীরার এই বিষমুক্ত ও নিরাপদ আম বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।