লক্ষ্মীপুরে একটি মারামারি মামলায় ফারহানা আক্তার শিল্পি নামে এক নারীসহ দুইজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এরমধ্যে শিল্পির সঙ্গে কারাগারে যেতে হয়েছে তার দুধের শিশুটিকে। অন্যদিকে, স্কুলড্রেস পরিহিত তার আরও দুই সন্তান গিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল জেলগেটে।
সোমবার (১১ মে) বিকেল ৫টার দিকে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালত সদরের পেশকার দেলোয়ার হেসেন বলেন, ‘সিআর ৫৬৫ মামলায় আসামি শিল্পি ও জহির উদ্দিনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুপুরে আদালতের বিচারক শাহ জামাল এ নির্দেশ দেন। আমরা আসামিদের আদালতের পুলিশি হাজতে দিয়েছি। পরে বাচ্চাকে কারাগারে নিয়েছে নাকি বাসায় নেওয়া হয়েছে তা জানি না।’
এদিকে প্রিজনভ্যানের ভেতর মায়ের কোলে থাকা শিশুটি ও জেলগেটে দাঁড়িয়ে থাকা দুই সন্তানের ছবি ফেসবুকে দিয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী মহসিন কবির স্বপন একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এরসঙ্গে ঘটনার দিনের একটি ভিডিও তিনি পোস্ট করেছেন।
এ ব্যাপারে আইনজীবী স্বপন বলেন, দুধের শিশু সিয়ামসহ শিল্পি এখন কারাগারে রয়েছে। তার অন্য দুই সন্তান পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র শিপন হোসেন (১০) ও দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী তামান্না আক্তার (৮) জেলগেটে গিয়ে মায়ের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিল। তারা শহীদ স্মৃতি আদর্শ একাডেমির শিক্ষার্থী। তাদের পরীক্ষা চলমান।
স্ট্যাটাসটিতে আইনজীবী মহসিন কবির স্বপন লিখেন, ‘মায়ের সঙ্গে দুগ্ধজাত ১ বছরের শিশুটিও হাজতে। অভিযোগ লোহার রড দিয়ে বাড়ি এমসি নীল। আরও দুটি শিশু বাচ্চার পরীক্ষা চলমান। মায়ের জন্য দুটি বাচ্চা জেল খানার সামনে দাঁড়িয়ে’।
ভিডিও’র বিশ্লেষণে তিনি লিখেছেন, ‘দেখুনতো গোলাপি জামা পরা মেয়েটির হাতে কি লোহার রড আছে? সেতো মার খাচ্ছে, অথচ বলা হচ্ছে সে মেরেছে এবং জেলে’।
আসামিপক্ষের আরেক আইনজীবী রাকিবুল হাসান তামিম বলেন, এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে শিল্পি লোহার রড দিয়ে ভুক্তভোগীর মাথায় আঘাত করেছে। এতে ভুক্তভোগীর মাথা ফেটে মগজ বের হয়ে যায়। এজাহার দেখে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে মেডিকেল সার্টিফিকেট তলব করে। ভুক্তভোগী মেডিকেল সার্টিফিকেট জমা দিয়েছে। তবে সেখানে সাধারণ জখম উল্লেখ করেছে চিকিৎসকরা। এতে ঘটনাটি জামিনযোগ্য হলেও আদালত শিল্পিসহ দুইজনকে কারাগারে পাঠিয়েছে। শিল্পির সঙ্গে তার দুধের শিশুও এখন কারাগারে।
শিশু সন্তানসহ এক নারীকে কারাগারে নেওয়ার বিষয়টি লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার নুর মোহাম্মদ সোহেল নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আড়াই বছরের শিশু সিয়ামকে নিয়ে একটি মামলায় তার মা শিল্পি এখন কারাগারে আছেন। বিকেলে তাদেরকে কারাগারে আনা হয়েছে।’
এজাহার সূত্র জানায়, মামলার বাদী মাহাতাব উদ্দিন ভূঁইয়া। তিনি লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের সাহাপুর এলাকার মৃত ছিদ্দিক উল্যাহ ভূঁইয়ার ছেলে। ১৫ এপ্রিল তার ওপর হামলার অভিযোগ এনে তিনি অতিরিক্ত চফি জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী সদর আদালতে মামলা দায়ের করেন। এতে প্রতিবেশী শিল্পিসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৫ জনকে আসামি করা হয়। শিল্পি পৌরসভার সাহাপুর এলাকার ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী।
মামলায় উল্লেখ করা হয় শিল্পি রড দিয়ে বাদীর মাথার পেছনে আঘাত করে। এতে বাদীর মাথার হাড় ভেঙে মোগজ বের হয়ে যায়। অন্যদিকে এজাহারে গুরুতর আঘাত উল্লেখ করা হলেও লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের দেওয়া মেডিকেল সার্টিফিকেটে (এমসি) আঘাতের ধরণ সিম্পল (সাধারণ) বলে উল্লেখ করা হয়েছে।