জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার পাঁচবিবি (বড়মানিক মোড়) থেকে শালপাড়া বাজার পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ কাজে নিম্ন মানের ইট, বালু ও খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ২০২৫ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের হতে আর ডি আই আর ডাব্লিউ এস পি প্রকল্পের আওতায় পাঁচবিবি (বড়মানিক মোড়) হতে শালপাড়া বাজার পর্যন্ত (১৫০০ মিঃ হতে ৫৮০০ মিঃ) ৪৩০০ মিটার সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয় নওগাঁর ইথেন এন্টারপ্রাইজকে।
কাজের চুক্তি মূল্য ৭ কোটি ৫৬ লক্ষ ৫৮ হাজার ৩০৮ টাকা। কাজটি শুরু হওয়ার পর থেকে সড়কের দু'ধারের বেডে ইট, খোয়া বালির পরিবর্তে ইট ভাটার ডাস্ট দেওয়া হলে উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় থেকে গত ৮ ও ১২ মার্চ পর পর দুটি পত্র দিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৫৮০ মিটার সড়কের নিম্ন মানের খোয়া তুলে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন।
বর্তমানে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নতুন করে সড়কের দুইধারে আবারও বালু মেশানো খোয়া ফেলানো হচ্ছে। তাতে বিট বালুর বদলে দেওয়া হচ্ছে জমির মাটি।
সাইদুল ইসলাম নামের এক পথচারী নাগরিক প্রতিদিন-কে বলেন, ‘জীবনে অনেক সরকারী কাজ দেখেছি, এতো নিম্নমানের কাজ হয়, সেটা দেখিনি। শুনলাম রাস্তা থেকে নিম্নমানের খোয়া তোলা হবে। প্রতিদিন রাস্তা দিয়ে চলাচল করি, কই খোয়া তোলা দেখলাম না।’
রুহুল আমিন নামের একজন বলেন, ‘ইটের ভাটার ডাস দিয়ে সড়কের কাজ হয় এই প্রথম দেখলাম।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আয়মারসুল ইউপির একজন প্রতিনিধি বলেন, সরকারি কাজের সময় ইঞ্জিয়ার অফিসের লোক থাকার কথা থাকলেও কোনো লোককে দেখা যায় না। আর সেই সুযোগে তারা অনিয়ম করে।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ইথেন এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার নুর আলমের নিকট কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কাজ আমাদের হলেও করছে অন্যজন। আপনি তাদের সঙ্গে কথা বলেন।’
উপজেলা প্রকৌশলী মোবারক হোসেন নাগরিক প্রতিদিন-কে বলেন, ‘নিম্নমানের খোয়া অপসারণ করা হয়েছে। অপসারণের ছবি অফিসে আছে দেখতে পারেন।’
জয়পুরহাট এলজিইডি'র নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘নিম্নমানের কাজের বিষয়ে আমার জানা নেই। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’