টিকটক ও ফেসবুকে পরিচয়, এরপর প্রেম। সেই প্রেম বিয়েতে রূপ দিতে বগুড়া থেকে কুষ্টিয়ায় ছুটে আসেন এক যুবক। পরে প্রেমিকার বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশনে বসেন তিনি। একপর্যায়ে প্রেমিকার পরিবার বিয়েতে রাজি হলেও শর্তজুড়ে দেয়। বলা হয় তার বাবা-মা উপস্থিত থাকলেই হবে বিয়ে।
কিন্তু যুবকের পরিবারের সম্মতি মেলেনি। উল্টো ফোনে বকাঝকা করেন বাবা-মা। এতে অভিমান করে প্রেমিকার বাড়ির পাশের একটি মেহগনি বাগানে গিয়ে বিষপান করেন আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি।
গত সোমবার (১১ মে) রাতে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের চৌদুয়ার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করা ওই যুবকের নাম ইলিয়াস সরদার। তিনি বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের নিচ্চুনপুর গ্রামের আশরাফ সরদারের ছেলে।
জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে টিকটক ও ফেসবুকের মাধ্যমে কুষ্টিয়ার মিরপুরে উপজেলার আমলা চৌদুয়ার এলাকায় এক তরুণীর সঙ্গে ইলিয়াসের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্প্রতি বিয়ের উদ্দেশ্যে ইলিয়াস প্রেমিকার বাড়িতে আসেন। শুরুতে মেয়ের পরিবার আপত্তি জানালেও পরে তারা বিয়েতে সম্মতি দেন। তবে শর্ত হিসেবে ছেলের বাবা-মাকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়। এরপর ইলিয়াস তার পরিবারকে বিষয়টি জানালে তারা এতে অসম্মতি জানিয়ে উল্টো তাকে বকাঝকা করেন। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে মেয়ের বাড়ির পাশের একটি মেহগনি বাগানে গিয়ে বিষপান করেন ইলিয়াস। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইলিয়াস সরদার বলেন, ‘মেয়ে রাজি, মেয়ের পরিবারও রাজি। কিন্তু আমার বাবা-মা আসছেন না বলে বিয়ে হচ্ছে না। পরিবারের বকাঝকার কারণেই আমি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছি ‘
মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. পিযূষ কুমার সাহা নাগরিক প্রতিদিনকে জানান, গত ১১ মে রাতে বিষপান করা অবস্থায় ইলিয়াসকে হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসকরা তার শরীর থেকে বিষ বের করেছেন। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত।