ভোরের আলো ফোটার আগেই আছিয়া বেগমের দিন শুরু হয়। ঘরের কাজ সারতে সারতে একবার উঁকি দেন গোয়ালঘরে। সারা বছরের যত্ন আর পরিশ্রমের ফসল তার চারটি গরু। সামনে কোরবানির ঈদ তাই ভালো দামের আশায় বুক বেঁধেছেন। মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আলোকদিয়া চরের এই নারী খামারি বলেন, ‘গরুগুলো সন্তানের মতো করে পালি। প্রতি বছর কোরবানির গরু বিক্রির টাকায় সংসার চলে, আবার নতুন গরু কিনে লালন পালন করি।’
শুধু আছিয়া বেগম নন, পদ্মা ও যমুনার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলজুড়ে এমন হাজারো পরিবার কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরু পালন করেন। জেলার শিবালয়, দৌলতপুর ও হরিরামপুর উপজেলার চরগুলোতে ঘুরলে চোখে পড়ে প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই এক বা একাধিক মোটাতাজা গরু বাঁধা। প্রাকৃতিক ঘাসে ভরা মাঠ, সঙ্গে ভুট্টা, খড় আর খৈল এই সহজলভ্য খাবারেই কম খরচে তৈরি হয়েছে কোরবানির পশু।
জেলা প্রানি সম্পদ কার্যালয় জানায়, এ বছর জেলায় ৯৯ হাজার ৭৭১টি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এরমধ্যে গরু ৫৪ হাজার ১৯৫টি, ছাগল- ভেড়া ৪০ হাজার ৫৬৩টি।
চরের আরেক খামারি শেফালি আক্তার জানান, ‘সারা বছর কষ্ট করি। ঘাস-ভুসি-খৈল খাওয়াইয়া গরু বড় করি। ঈদের সময় বিক্রি করলে কিছুটা হাতে আসে সেটাই আমাদের ভরসা।’
স্থানীয়রা জানান, চরাঞ্চলে পশুপালনে নারীদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো। পুরুষেরা মাঠে বা নদীতে ব্যস্ত থাকেন, আর ঘরের কাজের ফাঁকে গরুর দেখভালের ভার সামলান নারীরাই। এই ছোট্ট উদ্যোগই অনেক পরিবারের বাড়তি আয়ের পথ খুলে দেয়।
মানিকগঞ্জ ডেইরি অ্যাসোসিয়েশন ফার্মের সভাপতি মাহিনুর রহমান বলেন, চরে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে বড় করা গরু স্বাস্থ্যের দিক থেকে অন্য অঞ্চলের চেয়ে ভাল। এবার চাহিদাও ভালো থাকে। তবে খামারিরা যেন ন্যায্য মূল্য পান, সে জন্য বাজার ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করা দরকার।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ মজিবুর রহমান জানান, এ বছর জেলার চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত প্রায় ৩৩ হাজার ৮৪১টি পশু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে। চরের খামারিদের সারা বছরই প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হয়। আশা করছি এবার খামারিরা তাদের পরিশ্রমের ন্যায্য পুরস্কার পাবেন।