আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সিলেটে কোরবানির পশুর কোনো ঘাটতি নেই। বরং চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ। তবে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু প্রবেশের আশঙ্কায় উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয় খামারিরা। তবে পুলিশ বলছে, অবৈধভাবে ভারতীয় গরু প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।
খামারিরা বলছেন, চলছে কুরবানির পশুর শেষ মুহূর্তের পরিচর্যা। পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত থাকলেও বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তাদের অভিযোগ, সীমান্ত পথে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু প্রবেশ করলে স্থানীয় বাজারে দাম কমে যায়। এতে ক্ষতির মুখে পড়তে হয় দেশীয় খামারিদের।
খামারিদের দাবি, গত এক বছরে পশুখাদ্যের দাম ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে শ্রমিকের মজুরি, বিদ্যুৎ বিল ও পশু চিকিৎসার খরচ। এছাড়া চলমান তীব্র গরমে পশুর বাড়তি পরিচর্যার প্রয়োজন হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়েছে।
এ বিষয়ে আল মদিনা ডেইরি ফার্মের স্বত্বাধিকারী সামছুল ইসলাম বলেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ গরু প্রবেশ করলে দেশীয় খামারিরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। তাই অবৈধ পশু প্রবেশ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে সিলেট জেলা পুলিশ জানিয়েছে, ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর একটি চোরাচালান চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। যাতে অবৈধ ভারতীয় গরু দেশের বাজারে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
সিলেট জেলা পুলিশের মিডিয়া ফোকাল কর্মকর্তা ও সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. সম্রাট তালুকদার বলেন, দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে এবং অবৈধ পশু প্রবেশ ঠেকাতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর সিলেটে কুরবানিযোগ্য পশুর চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৯৩৮টি। এর বিপরীতে প্রস্তুত করা হয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৫টি পশু। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত পশু রয়েছে প্রায় ৪ হাজারের বেশি।
গত বছরের তুলনায় এ বছর কুরবানির পশুর চাহিদা বেড়েছে ২০ হাজার ৩৯৭টি এবং উৎপাদন বেড়েছে ৫ হাজারের বেশি।
বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ড. মো. মারুফ হাসান জানান, খামারিদের সক্ষমতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্টেরয়েডমুক্ত পশু মোটাতাজাকরণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
এদিকে, সিলেট জেলার বৈধ ৬০টি পশু হাটের অনুমোদন দিয়েছে প্রশাসন, যেখানে সিটি করপোরেশন এলাকায় পশুর হাট থাকবে চারটি।