নেইমারের নাম ঘোষণার মুহূর্তেই যেন উৎসবে মেতে উঠল পুরো ব্রাজিল। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য কোচ কার্লো আনচেলত্তির ঘোষিত ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দলে জায়গা পেয়েছেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। আর এতেই যেন নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপকে সামনে রেখে সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে দল ঘোষণা করেন আনচেলত্তি। প্রায় ৭০০ সাংবাদিকের উপস্থিতিতে আয়োজিত সেই সংবাদ সম্মেলনে সবচেয়ে বেশি প্রতীক্ষা ছিল একটাই, নেইমার থাকছেন কি না। অবশেষে যখন তার নাম ঘোষণা করা হয়, তখন পুরো কক্ষজুড়ে শুরু হয় উল্লাস। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে কিছু সময়ের জন্য নাম ঘোষণা থামিয়ে দিতে বাধ্য হন আনচেলত্তি।
তবে উচ্ছ্বাস শুধু সংবাদ সম্মেলনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। গোটা ব্রাজিলজুড়েই ছড়িয়ে পড়ে আনন্দের ঢেউ। বিশেষ করে সাবেক ডিফেন্ডার মার্সেলোর প্রতিক্রিয়া মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
দল ঘোষণার সময় টেলিভিশনের পর্দায় নেইমারের ছবির পাশে ভেসে ওঠে ‘বাতে নো পেইতো’। বাংলায় যার অর্থ ‘বুকে হাত দাও’। এই দৃশ্য দেখেই আবেগে ফেটে পড়েন মার্সেলো। রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক এই লেফট-ব্যাককে দেখা যায় চিৎকার করতে, মুষ্টি উঁচিয়ে উদযাপন করতে এবং হাসিমুখে আনন্দ প্রকাশ করতে।
সেই ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। অনেকেই মনে করছেন, এটি শুধু নেইমারের বিশ্বকাপ দলে ফেরার আনন্দ নয়, বরং ব্রাজিল জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মধ্যকার বন্ধন ও ভালোবাসারই এক বড় উদাহরণ।
৩৪ বছর বয়সী নেইমারের জন্য এই বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে বিশেষ এক মঞ্চ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একের পর এক চোট তাকে মাঠের বাইরে রেখেছে। তবু ব্রাজিলের ফুটবল মানচিত্রে তার গুরুত্ব এতটুকু কমেনি। বরং তার ফেরায় দল নতুন করে আত্মবিশ্বাস পাচ্ছে বলেই মনে করছেন সমর্থকরা।
বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিলকে আবারও শিরোপার লড়াইয়ে দেখতে চান দেশটির সমর্থকেরা। আর সেই স্বপ্নে সবচেয়ে বড় ভরসার নাম এখনো নেইমার।