দেখলে মনে হবে যেন সিনেমার কোনো দৃশ্য। বিশাল দেহ, শান্ত স্বভাব আর মালিকের প্রতি অদ্ভুত ভালোবাসা— সব মিলিয়ে নেত্রকোনার আটপাড়ায় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এক গরু, যার নাম ‘রাজাবাবু’।
মালিক ডাক দিলেই কখনও জিভ দিয়ে চুলে আলতো টান, কখনও শরীরে স্নেহের স্পর্শ— মনে হয় যেন মানুষের ভাষা না বুঝেও মালিকের প্রতিটি অনুভূতি বুঝে নেয় সে। আর সেই ভালোবাসার গল্পই এখন ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়।
নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলার সুখারী ইউনিয়নের ছোট খামারি কামাল হোসেনের আদরে লালিত-পালিত ষাঁড় ‘রাজাবাবু’ দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন দূর-দূরান্তের মানুষ। বিশাল দেহ আর শান্ত-শিষ্ট আচরণে সবার মন জয় করেছে গরুটি।
রাজাবাবুর ওজন প্রায় ২৪ মণ ১৩ কেজি। উচ্চতা ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ৭ ফুট। দানবীয় গড়নের হলেও স্বভাবে একেবারেই শান্ত। স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, ‘নাম যেমন রাজাবাবু, দেখতে আর আচরণেও ঠিক তেমনই রাজকীয়।’
খামারি কামাল হোসেন আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘ছোট থেকে অনেক আদর-যত্ন করে তাকে বড় করেছি। আমার খুব শখ ছিল এমন একটা গরু পালন করার। ও শুধু গরু না, পরিবারের একজন সদস্যের মতো। এখন তাকে ছাড়তে খুব কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু টাকার প্রয়োজন, তাই বিক্রি করা ছাড়া উপায় নেই।’
তিনি আরও জানান, রাজাবাবুকে দেশীয় ঘাস ও প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে বড় করা হয়েছে। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ বা মোটাতাজাকরণ ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়নি।
কামাল হোসেন বলেন, ‘এই দেখেন ঘাস— এগুলোই খাইয়ে বড় করেছি। আল্লাহর রহমতে এত বড় হয়েছে। কোনো ফরমালিন বা ওষুধ ব্যবহার করিনি।’
রাজাবাবুকে ঘিরে পরিবারের সদস্যদের মাঝেও রয়েছে গভীর আবেগ। কামাল হোসেন ছেলে বলেন, ‘আমরা সবাই খুব আদর করে তাকে বড় করেছি। এখন কোরবানির ঈদে তাকে ছেড়ে দিতে হবে— ভাবতেই খারাপ লাগছে।’
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এমন চিত্র এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তেই দেখা যাচ্ছে। কোথাও হাসিমুখে কোরবানির প্রস্তুতি, আবার কোথাও বছরের পর বছর আদরে বড় করা পশুকে বিক্রি করে চোখের জল ফেলছেন খামারিরা।
রাজাবাবুকে দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। দূর-দূরান্ত থেকেও ক্রেতারা আসছেন তাকে কিনতে। ইতোমধ্যে গরুটির দাম উঠেছে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। তবে মালিকের আশা, ৫ লাখ টাকা পেলেই প্রিয় ‘রাজাবাবু’কে নতুন মালিকের হাতে তুলে দেবেন।