টানা ১০ মাস ধরে বেতন না পেয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ২৭ জন টিকা বহনকারী (পোর্টার)। ধারদেনা করে পরিবার চালাতে হচ্ছে তাদের। অনিশ্চয়তায় পড়েছে সন্তানদের পড়াশোনাও।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পূর্ব মেড্ডা এলাকার টিকা বহনকারী নাহিদ মিয়া জানান, বৃদ্ধ মা-বাবা, স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে তার ছয় সদস্যের সংসার। কিন্তু, ১০ মাস ধরে বেতন বন্ধ থাকায় প্রায় ৭০ হাজার টাকা ঋণ করতে হয়েছে। তবুও নিয়মিত টিকা পৌঁছে দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
জানা গেছে, চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি বকেয়া বেতনের দাবিতে জেলা সিভিল সার্জনের কাছে স্মারকলিপি দেন টিকা বহনকারী কর্মীরা। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাস প্রতি মাসে ১২ হাজার টাকা এবং ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর ও ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সাত মাস প্রতি মাসে ১৬ হাজার ৮০০ টাকা করে বেতন পাওয়ার কথা থাকলেও এখনো সেই অর্থ পরিশোধ করা হয়নি।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সময়ের সঙ্গে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির পরিধি বেড়েছে। নতুন নতুন টিকা যুক্ত হওয়ায় মাঠপর্যায়ে পোর্টারদের কাজও বেড়েছে। পোলিও নির্মূল, মাতৃ ও নবজাতকের ধনুষ্টংকার প্রতিরোধ, হেপাটাইটিস-বি, এমআর, পিসিভি ও আইপিভিসহ বিভিন্ন টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন নোমান মিয়া বলেন, প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেতন দিতে জটিলতা তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে, অর্থ ছাড় হলে বকেয়া পরিশোধ করা হবে।