পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যেক উপকারভোগীর ১০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা থাকলেও অনেককে সাড়ে ৮ কেজি থেকে সোয়া ৯ কেজি পর্যন্ত চাল দেওয়া হচ্ছে।
বুধবার (২০ মে) মানবিক সহায়তা কর্মসূচি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আওতায় উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ১০ হাজার ২২০ জন উপকারভোগীর মাঝে মোট ১০২ দশমিক ২০০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। তবে বিতরণ শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই চাল কম দেওয়ার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে।
সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি বিতরণ কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, উপকারভোগীদের দীর্ঘ সারি ও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে সৃষ্টি হয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা। অনেক সুবিধাভোগী অভিযোগ করেন, প্রশাসনের ট্যাগ অফিসার বা তদারকি কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকাকালে সঠিক ওজনে চাল দেওয়া হলেও কর্মকর্তারা চলে যাওয়ার পরই কম ওজনে চাল বিতরণ শুরু হয়।
অভিযোগ উঠেছে, আমরাজুরী ইউনিয়ন ও কাউখালী সদর ইউনিয়নের কয়েকজন ইউপি সদস্য ১০ কেজির পরিবর্তে সাড়ে ৮ কেজি থেকে ৯ কেজি করে চাল বিতরণ করেছেন।
আমরাজুরী ইউনিয়নের উপকারভোগী লাকি আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ, দূর-দূরান্ত থেকে ইউনিয়ন পরিষদে আসতে অনেক ভাড়া লাগে। এরপর এসে যদি দেখি ১০ কেজির জায়গায় চাল কম দেওয়া হচ্ছে, তখন খুব কষ্ট লাগে। এটা আমাদের সঙ্গে অন্যায়।’
একই অভিযোগ করেন কাউখালী সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘যদি নিজ নিজ ওয়ার্ডে চাল বিতরণ করা হতো, তাহলে যাতায়াত খরচ কম লাগত, ভিড়ও কম হতো। ইউনিয়ন পরিষদে এসে সময় ও টাকা দুটোই নষ্ট হচ্ছে।’
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ইউপি সদস্য দাবি করেন, মানবিক কারণে কিছুটা কম দিয়ে চাল বিতরণ করতে হচ্ছে। তাদের ভাষ্য, কার্ডবিহীন অনেক অসচ্ছল মানুষও চালের আশায় কেন্দ্রে আসেন। তাদের খালি হাতে ফেরানো সম্ভব হয় না বলেই সবার মাঝে ভাগ করে দিতে সামান্য কম-বেশি করতে হচ্ছে। এছাড়া অনেক সময় সরকারি বস্তায়ও চালের ঘাটতি থাকে বলে দাবি করেন তারা।
চাল বিতরণে অনিয়ম ও ওজনে কম দেওয়ার বিষয়ে কাউখালী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মফিজুর রহমান বলেন, ‘সরকারি চাল ওজনে কম দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। প্রতিটি বস্তায় নির্ধারিত পরিমাণ চাল সরবরাহ করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে কারও বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘মানবিক সহায়তা কর্মসূচির চাল নিয়ে কোনো ধরনের নয়ছয় বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিয়মিত বিতরণ কেন্দ্র মনিটরিং করছেন। কেউ যদি উপকারভোগীদের ঠকিয়ে থাকে, তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি বা দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’