জয়পুরহাটের সীমান্ত ঘেষাঁ পাঁচবিবি উপজেলায় ব্যাপক হারে বেড়েছে চুরির ঘটনা। উপজেলার বিভিন্ন বাজারের দোকান ও বাড়িতে অহরহ চুরি হচ্ছে। ফলে চুরি আতঙ্কে রয়েছেন এলাকাবাসী। রাতে পাহারার ব্যবস্থা করেও থামানো যাচ্ছে না এই চোর চক্রকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিন দিন উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে চুরির ঘটনা বেড়েই চলেছে। চোর চক্রটি কখনো জানালার গ্রিল কেটে, কখনো বা সিঁধ কেটে গরু-ছাগল, স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে।
ভূক্তভোগীরা জানান, প্রত্যোকটা চুরি একই কায়দায় হওয়াই সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এছাড়াও বাসা বাড়ির পানির পাম্প, আসবাববপত্র, ক্ষেতের ফসলসহ অহরহ চুরি হচ্ছে প্রতিদিন। চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো থানায় অভিযোগ করলেও চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার ও চুরি ঠেকাতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংঘবদ্ধ চোর চক্রকে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।
মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতেও পাঁচবিবি পৌরসভার মালঞ্চা হঠাৎপাড়া গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে বিপুল হোসেনের গোয়াল ঘর থেকে ফ্রিজিয়ান জাতের ২টি গাভী ও ২টি বাছুর এবং একই রাতে তার ভাই তাইবুর রহমানের বাড়ি থেকে একটি গাভী চুরি হয়। যার প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা। এছাড়াও গত এক মাসে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ১০ বারের বেশি চুরির ঘটনা ঘটেছে।
নাকুরগাছী এলাকার লাভলু মন্ডল বলেন, ‘১৫ দিন হলো আমার একমাত্র আয়ের উৎস দুটি হালের বলদ চুরি হয়েছে। থানায় অভিযোগ করলাম, কিন্তু কোনো সন্ধান আজ পর্যন্ত পেলাম না। থানায় যোগাযোগ করলে তারা আমাকেই সন্ধান নিয়ে জানাতে বলে।’
স্থানীয় সংগঠক আমজাদ হোসেন বলেন, ‘সর্বত্রই মাদকাসক্ত ও অনলাইন জুয়া বেড়ে গেছে। এ কারণেই চুরি বৃদ্ধি পেয়েছে।’
চোর চক্রকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল হাফিজ মো. রায়হান। পাশাপাশি চুরি ঠেকাতে বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের টহল বৃদ্ধি করাসহ জন সাধারণকে সচেতন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।