আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়ের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৫৯ বছর পর তামিলনাড়ুর ক্ষমতায় ফিরছে কংগ্রেস।
তামিলনাড়ুর আঞ্চলিক দল দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাগাম (ডিএমকে) এবং নিখিল ভারত আন্না দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাগামের (এআইএডিএমকে) উত্থানের পর দক্ষিণের এই রাজ্যে কংগ্রেস রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। দীর্ঘসময় পর ক্ষমতায় ফেরার এই ঘটনাকে দলটি ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
এনডিটিভি বুধবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কংগ্রেসের দুজন বিধায়ক মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নিশ্চিত করেছেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতা কে সি ভেনুগোপাল।
তিনি লিখেছেন, ‘মল্লিকার্জুন খাড়গে (কংগ্রেসের সভাপতি) তামিলনাড়ু মন্ত্রিসভায় কংগ্রেস বিধায়ক অ্যাডভোকেট রাজেশ কুমার এবং থিরু পি বিশ্বনাথনের অন্তর্ভুক্তির অনুমোদন দিয়েছেন। এটি আমাদের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। দীর্ঘ ৫৯ বছরের ব্যবধান কাটিয়ে তামিলনাড়ু মন্ত্রিসভায় যোগ দিচ্ছে কংগ্রেস!’
গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ডিএমকের মিত্র হিসেবে কাজ করলেও দ্রাবিড় রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তারকারী এই দলটির সরকারের অংশ হওয়ার সুযোগ কখনো পায়নি কংগ্রেস।
এমনকি এবারের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ডিএমকের কাছে জয়লাভের পর মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল কংগ্রেস। তবে ডিএমকে তা সরাসরি নাকচ করে দেয়।
নির্বাচনে ৪১টি আসন দাবি করলেও কংগ্রেসের সেই অনুরোধ রাখেনি ডিএমকে। তারা কেবল ২০টির কিছু বেশি আসন দিতে রাজি হয়েছিল।
অন্যদিকে বিজয়ের দল নেপথ্য আলোচনায় কংগ্রেসকে ৭০টি আসন দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল, যা ছিল ডিএমকের তুলনায় অনেক বড় সুযোগ।
তামিলনাড়ুর এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্টরি কাজাগাম (টিভিকে) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার খুব কাছাকাছি গিয়ে এক ঐতিহাসিক জনরায় পায়।
এরপরই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ২৭টি আসনের মধ্যে ৫টিতে জয় পাওয়া কংগ্রেস ডিএমকের সঙ্গে জোট ভেঙে বিজয়ের দলের সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তোলে।