পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট নৌপথে যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখো ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্ন পারাপারের জন্য এই দুটি নৌরুটে ইতোমধ্যে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ২২টি ফেরি ও ৩৩টি লঞ্চ।
ঘাট সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের কাছে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট নৌপথ দুটি যোগাযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ঈদের আগের কয়েকদিন এই রুটে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সেই বাড়তি চাপ মোকাবেলায় এবার ফেরির সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। প্রস্তুত ফেরিগুলোর মধ্যে রো-রো ও কে-টাইপ ফেরি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পাটুরিয়া লঞ্চ ঘাটের ব্যবস্থাপক পান্না লাল নন্দী জানান, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ২০টি এবং আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ১৩টি লঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যাত্রীদের যেকোনো ভোগান্তি এড়াতে সব ধরনের ব্যবস্থা আগেভাগেই নেওয়া হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) সালাম হোসেন বলেন, ‘ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ফেরিগুলো সচল রাখতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি ঘাট এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।’
শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনীষা রানী কর্মকার জানান, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নজরদারি, ভ্রাম্যমাণ আদালত ও উদ্ধার টিম সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহন রোধে ইতোমধ্যে কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএর আরিচা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল আলম বলেন, ঘাট এলাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও জোরদার করা হয়েছে। যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে আলাদা লেন, সুশৃঙ্খল পার্কিং ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত তথ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। এই সমন্বিত উদ্যোগের ফলে এবারের ঈদযাত্রায় পাটুরিয়া-আরিচা নৌপথে যাত্রীদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।