ভিজিএফের চাল
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হলেও রাঙ্গামাটি সদর উপজেলায় সেই বিতরণ কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারিভাবে জনপ্রতি ১০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক সুবিধাভোগী পেয়েছেন ৮ থেকে ৯ কেজির মতো চাল।
জানা গেছে, রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা ও পৌরসভার জন্য এবার ৯ মেট্রিক টন ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে চাল বিতরণের সময় নির্ধারিত ওজন না মেনে বালতি বা টিনের কৌঠা দিয়ে চাল মাপার কারণে কম চাল পাচ্ছেন এমন অভিযোগ উঠেছে।
শহরের ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডে সরেজমিনে গিয়ে অন্তত ৩০ জন সুবিধাভোগীর চাল মেপে দেখা যায়, তারা পেয়েছেন ৯ কেজি ৩০০ গ্রাম থেকে ৯ কেজি ৭০০ গ্রাম পর্যন্ত চাল।
স্টেডিয়ামে ৯নং ওয়ার্ডের চাল বিতরণে থাকা পৌরসভার কর্মী বসির জানান, ‘সরকার থেকে যখন চালের বস্তাগুলো আসে, তখনও প্রতি বস্তায় ১-২ কেজি কম থাকে। আর চাল মাপার এই টিনের কৌঠা আগে থেকেই ব্যবহার হয়ে আসছে। এখানে আমাদের কিছু করার নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিতরণের পর যদি চাল অবশিষ্ট থাকে, তাহলে যেসব দরিদ্র মানুষ কার্ড পাননি, তাদের মাঝে ৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। এছাড়া একটি চালও ফেরত নেওয়া হবে না।’
রাণী দয়াময়ী স্কুলে ৮নং ওয়ার্ডের চাল বিতরণে থাকা সোহেল নামের একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বলেন, ‘এটা আমার দায়িত্ব না। এ বিষয়ে আমি কোনো বক্তব্য দিতে পারব না।’
অন্যদিকে কাঁঠালতলী স্কুলে ৭নং ওয়ার্ডের চাল বিতরণে দায়িত্বরত এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমরাও চাই সবাই সঠিকভাবে চাল পাক। ডিজিটাল মিটার দিলে সবচেয়ে ভালো হতো। এমনকি কার্ডগুলোও ঠিকভাবে প্রস্তুত করা হয়নি। ৯নং ওয়ার্ডের স্বাক্ষরে ৭নং ওয়ার্ডের কার্ড দেওয়া হয়েছে। সবকিছুই এলোমেলো অবস্থায় রয়েছে।’
এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক মুহাম্মদ ইমরানুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘চাল কম দেওয়ার কোনো সুযোগই নেই। আমি সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে জানিয়ে দিচ্ছি বিষয়টি।’
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সরকারি সহায়তা সঠিকভাবে বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।