খেলাধুলা, হাসি আর দুরন্ত ছুটে চলার বয়সে ছোট্ট কল্পনার দিন কাটে নীরব কষ্টে। নেই নতুন জামার আবদার, নেই ঈদের আনন্দ নিয়ে কোনো উচ্ছ্বাস। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হয়তো সে নিজেকেই প্রশ্ন করে— ‘আমি কেন অন্য সবার মতো না?’
নেত্রকোনার ইসলামপুর উপজেলার এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া কল্পনা আক্তারের বয়স মাত্র ৮ বছর। অথচ শারীরিক গঠন দেখে মনে হয় যেন একজন পূর্ণবয়স্ক তরুণী। ছোট্ট এই শিশুটির জীবন এখন অসহায়ত্ব, কষ্ট আর অনিশ্চয়তায় ঘেরা।
কল্পনার বাবা রিকশা চালান এবং মা অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। তারা কাজে চলে গেলে দাদীর কাছেই দিন কাটে কল্পনার। অন্য শিশুদের মতো মাঠে দৌড়ঝাঁপ কিংবা খেলাধুলা তার জীবনে নেই। বেশিরভাগ সময় চুপচাপ বসে থাকে সে। কেউ কিছু জানতে চাইলে কখনো অভিমানে মুখ ফিরিয়ে নেয়, আবার কখনো চোখ ভরে ওঠে কান্নায়।
কল্পনার পরিবার জানিয়েছে, জন্মের ১৫ মাস পর থেকে তার শরীর স্বাভাবিকের তুলনায় মোটা হতে থাকে এবং উঠতে শুরু করে লোম। ধিরে ধিরে তার মুখমণ্ডল পূর্ণবয়স্ক তরুণীর মতো হতে থাকে। তার পরিবারের সদস্যরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসা করালেও কোনো লাভ হয়নি।
সন্তানের ভবিষ্যত নিয়ে সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকেন মা লিপি আক্তার। তিনি জানান, কল্পনার সুস্থ্যতার জন্য ঋণ করে অনেকদিন চিকিৎসা করিয়েছেন। কিন্তু তার শরীরের কোনো পরিবর্তন হয়নি। চিকিৎসক তাকে ঢাকা নিয়ে চিকিৎসা করাতে বলেছেন। আর এ জন্য যে টাকা প্রয়োজন তা তাদের কাছে নেই। তাই অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে কল্পনার চিকিৎসা।
স্থানীয়রা জানান, কল্পনার পরিবার খুবই গরীব। পরিবারের পক্ষে তার চিকিৎসার খরচ বহন করা অসম্ভব। সমাজের বিত্তবান মানুষ ও প্রশাসনের সহযোগিতা পেলে হয়তো আবারও শুরু হতে পারে তার চিকিৎসা।
এবিষয়ে আটপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. সুদেন চক্রবর্তী বলেন, ‘হরমোনজনিত সমস্যার কারণেই শিশুটির বয়সের তুলনায় শারীরিক গঠন বেশি মনে হচ্ছে। এ ধরনের রোগ নির্ণয়ে বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন, যা জেলা পর্যায়ে সম্ভব নয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া গেলে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।’