‘মোবাইলে ছেলের অসুস্থতার খবর পেয়ে এখানে ছুটে আসি। এসে শুনি আমার ছেলে বালতির পানিতে ডুবে মারা গেছে; কিন্তু বালতিতে সামান্য পানি ছিল। আমার ছেলের বয়স ৬ বছর ৭ মাস। ও পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার মতো না। আমার মনে হয় ওর সৎমা ওকে মেরে ফেলেছে।’ কান্না করতে করতে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন বাগেরহাটের ফকিরহাটে উপজেলার লখপুর গ্রামের সৈকত হোসেন পাপ্পুর প্রাক্তন স্ত্রী মনিরা খানম।
শনিবার (২৩ মে) সকালে পানিভর্তি বালতির মধ্যে মাথা দেওয়া অবস্থায় তালহা (৭) নামের এক শিশুকে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সৈকত হোসেন পাপ্পু ও মনিরা খানমের ছেলের নাম মো. তালহা। তালহা তার বাবা ও সৎমা রুবাইয়ার সঙ্গে লখপুরে ভাড়া বাড়িতে থাকত। আর তালহার আপন মা মনিরাও বিয়ে করে অন্যত্র বসবাস করছেন।
শনিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার লখপুর গ্রামের এপিসি ফার্মাসিউটিক্যালসের পেছনে ভাড়াবাড়িতে পানিভর্তি বালতির মধ্যে মাথা দেওয়া অবস্থায় ওই শিশুকে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। পরে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক ওই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর তালহার সৎমা তাকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেন তার আপন মা মনিরা বেগম। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সৎমা রুবাইয়া আক্তারকে (২৫) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বলেন, আপাতদৃষ্টিতে এটাকে স্বাভাবিক মৃত্যু মনে হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সৎমাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হবে।