চলতি মৌসুমে আমের বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্যমূল্য না পেয়ে চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন সাতক্ষীরার আমচাষি ও বাগান মালিকরা। বর্তমানে আমের ভরা মৌসুম চলায় জেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র সুলতানপুর বড় বাজারে বিশ্ববিখ্যাত হিমসাগরসহ নানা জাতের আমের ঢল নেমেছে। তবে বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহের অজুহাতে পাইকারেরা সিন্ডিকেট করে কম দাম হাঁকায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় চাষিরা।
সরেজমিনে সুলতানপুর বড় বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সূর্যোদয়ের পর থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত আমবোঝাই যানবাহন বাজারে আসছে। বিখ্যাত হিমসাগর আমের পাশাপাশি গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ ও গোলাপখাসসহ স্থানীয় বিভিন্ন সুস্বাদু জাতের আমের ব্যাপক সমারোহ দেখা গেছে। এখান থেকে আম কিনে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের নানা প্রান্তে পাঠাচ্ছেন পাইকাররা।
তবে স্থানীয় পাইকারি বাজারে চাষিরা ন্যায্যমূল্য না পেলেও অনলাইন ও মাঠপর্যায়ে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অনলাইন ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি আম কুরিয়ার চার্জ ও আনুষঙ্গিক খরচসহ ১২৫ টাকায় বিক্রি করছেন। সেই হিসাবে অনলাইনে প্রতি মণ আমের দাম পড়ছে প্রায় ৫ হাজার টাকা। চড়া দামে অনলাইন ব্যবসা জমজমাট হলেও তার সুফল পাচ্ছেন না চাষিরা।
নজরুল ইসলাম নামের এক চাষি বলেন, ‘আম গাছে বছরে মাত্র একবার ফল আসে। আবার অনেক গাছে এক বছর ফল হয়, পরের বছর ফল হয় না। আমের ফলনের জন্য সারাবছর বাগান পরিচর্যা করতে হয়। প্রতি বছর কিছু লাভ থাকে বলে বাগান করি। এবার ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু বাজারে গিয়ে দেখি আমের দাম নেই। বাধ্য হয়ে কম দামেই বিক্রি করছি।’
মোবারক হোসেন নামের এক পাইকার বলেন, ‘অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর আমে কোনো পোকা নেই, মিষ্টিও হয়েছে। কিন্তু বাজারে দাম নেই। আবার আমাদের কম দাম দিয়ে দেখি অনলাইনে অনেকে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।’
এদিকে আমের ভরা মৌসুমে বড় বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণ আম সরবরাহের কারণে তীব্র ভোগান্তিতে পড়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। রোদে পোড়া অস্বস্তিকর গরমের মধ্যে পুরো বাজার এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সুলতানপুর বড় বাজারের পরিবর্তে অন্য কোনো প্রশস্ত জায়গায় আমের অস্থায়ী হাট বসানোর দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, গত ৫ মে থেকে স্থানীয় জাতের আম ভাঙা শুরু হয়েছে এবং ১৫ মে থেকে বাজারে রাজত্ব করছে হিমসাগর। আমে কেমিক্যাল বা ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার রোধে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। বিষমুক্ত ও নিরাপদ আম ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিতে মাঠপর্যায়ে প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।