জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নে ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিতরণ করা ভিজিএফের চাল পাননি অর্ধশতাধিক সুবিধাভোগী। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বঞ্চিতরা। তাদের প্রশ্ন—তালিকায় নাম ও বৈধ কার্ড থাকার পরও চাল গেল কোথায়?
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে শনিবার (২৩ মে) গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ভিজিএফ সুবিধাভোগীদের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়। গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চাল বিতরণ কার্যক্রম চলে। এ সময় অর্ধশতাধিক সুবিধাভোগী লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও চাল পাননি। পরে তারা খালি হাতে বাড়ি ফিরেছেন।
গোপীনাথপুর ইউনিয়নের চাঁপাগাছি-হরিপুর গ্রামের মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘দুপুর দেড়টার দিকে চাল নিতে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গিয়েছিলাম। তখন ইউপি চেয়ারম্যানকে পরিষদে দেখিনি। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর ভেতর থেকে বলা হয় চাল শেষ হয়েছে। খালি হাতে ফিরে এসেছি। আমার মতো অন্তত অর্ধশতাধিক সুবিধাভোগী চাল পাননি।’
পূর্ণ গোপীনাথপুর আলিমামুদপুর মোড় এলাকার চা দোকানি লিটন হোসেন বলেন, ‘দুপুর দুইটার দিকে চাল নিতে গিয়ে খালি হাতে ফিরে এসেছি। যাদের কার্ড নেই, তাদেরও অনিয়ম করে চাল দেওয়া হয়েছে। অথচ আমার মতো বৈধ কার্ডধারীরা চাল পাইনি। আমার সঙ্গে আরও ১৫ থেকে ১৬ জন কার্ডধারী ফিরে গেছেন।’
ইউনিয়নের বাসিন্দা আফজাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘সরকারি হিসেবে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও সুবিধাভোগীদের কেউই পূর্ণ পরিমাণ চাল পাননি। কেউ ৮ কেজি, আবার কেউ ৯ কেজি করে চাল পেয়েছেন।’
এ বিষয়ে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিতরণের শেষ সময় পর্যন্ত লাইনে থাকা সবাইকে চাল দেওয়া হয়েছে। এরপরও যদি কেউ বাকি থেকে থাকেন, তাদের আগামীকাল (২৪ মে) চাল দেওয়া হবে। প্রয়োজনে বাজার থেকে চাল কিনেও দেওয়া হবে। চাল বিতরণে কোনো অনিয়ম হয়নি।’
অপরদিকে চাল বিতরণের দেখভালের দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী একরামুল বারী বলেন, ‘অফিসে কাজের চাপ থাকায় সেখানে আমার প্রতিনিধি দায়িত্ব পালন করেছেন। আমার জানা মতে কোনো অনিয়ম হয়নি। শেষ সময় পর্যন্ত সবাই চাল পেয়েছেন।’
আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা জান্নাত বলেন, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।