কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁও সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু প্রবেশের অভিযোগ উঠেছে। জেলার বিভিন্ন সড়কে গভীর রাতে ট্রাকে করে গরু পরিবহনের দৃশ্য স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় খামারিরা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতি বছরের মতো এবারও ঠাকুরগাঁও থেকে দেশীয় গরু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বড় পশুর হাটে পাঠানো শুরু হয়েছে। তবে গত কয়েকদিন ধরে জেলার পীরগঞ্জ, বালিয়াডাঙ্গী ও রানীশংকৈল এলাকার সড়কে ভারতীয় গরু পরিবহনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, সীমান্তঘেঁষা বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে গভীর রাতে গরু বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হচ্ছে। পরে দ্রুত সেগুলো ছোট যানবাহন ও ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, বালিয়াডাঙ্গীর রত্নাই সীমান্ত, আমজানখোর, ধনতলা ইউনিয়ন সংলগ্ন এলাকা এবং রানীশংকৈলের ধর্মগড় ও জগদ্দল সীমান্ত দিয়ে এসব গরু আনা হচ্ছে।
বালিয়াডাঙ্গী সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম বলেন, প্রায় প্রতিদিন রাতেই সীমান্ত দিয়ে গরু ঢুকতে দেখা যায়। পরে সেগুলো ট্রাকে করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জাহিদ হাসান জানান, লাহিড়ী হাটে ভারতীয় গরু বিক্রি হচ্ছে। গভীর রাতে একের পর এক গরুবাহী ট্রাক চলাচল করতে দেখা যায়।
এদিকে, ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশে ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় খামারিরা। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার খামারি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সারা বছর কষ্ট করে গরু পালন করি। বিদেশি গরু বাজারে এলে দেশীয় গরুর দাম কমে যাবে। এতে ছোট ও মাঝারি খামারিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘চলতি বছর পশুর বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। এমন সময়ে ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশ বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।’
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ইজাহার আহমেদ খান বলেন, ‘অবৈধভাবে গরু প্রবেশ স্থানীয় অর্থনীতি ও খামারিদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। কোরবানির ঈদের আগে এমন চোরাচালান বৃদ্ধি পেলে দেশীয় খামারিরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।’
তবে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, ‘সীমান্ত দিয়ে গরু প্রবেশের বিষয়টি আগে জানা ছিল না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজীর আহম্মদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।