আসন্ন কোরবানির ঈদে হবিগঞ্জে পশুর হাটে আলোচনার শীর্ষে ছিল ১ হাজার ১০০ কেজি ওজনের ‘পুষ্পা’। খামারি গরুটির দাম ১০ লাখ টাকা হাঁকালেও বিশাল আকৃতির পুস্পা শেষ পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে সাড়ে ৭ লাখ টাকায়। আলোচিত এই গরুটি ঢাকার ওয়ারী এলাকার এক ব্যক্তি রোববার (২৪ মে) সকালে খামারে এসে ক্রয় করেছেন।
কোরবানির জন্য পশুটি প্রস্তুত করেছেন মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়ার পিওর এন্ড অর্গানিক ডেইরি ফার্মের খামারী মুত্তাকিম চৌধুরী। দেশীয়ভাবে পালন করা পুষ্পা এবার সকলের নজর কাড়ছে।
খামারি মোত্তাকিম চৌধুুরী বলেন, দেশীয় প্রদ্ধতিতে ষাড়টি তিন বছর ধরে খামারে লালন পালন করছি। প্রতিদিন সকাল বিকেল নিজেই এর যত্ন নিয়েছি। আমরা এর নাম রেখেছি পুষ্পা। তার ওজন প্রায় ১ হাজার ১০০ কেজি। আমরা পুষ্পার দাম ১০ লাখ টাকা চাইলেও সাড়ে লাখ টাকা হলে বিক্রি করে দিয়েছি। শুধু পুষ্পা নয়, আমাদের খামারে তিন শতাধিক পশু দেশীয়ভাবে লালন পালন করা হয়েছে। খামারে পশু পরিচর্যায় কাজ করছেন ২৫ জন শ্রমিক। আমার খামারে ৯০টি পশু কুরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ছোট বড় ও মাঝারি আকারের পশুও রয়েছে।’ এখন পর্যন্ত বেশিরভাগ পশু তিনি খামার থেকেই বিক্রি করেছেন বলে জানান তিনি।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রামপুর গ্রামের খামারি তুহিন মিয়া বলেন, ‘শাহিওয়াল ও নেপালিসহ বিভিন্ন জাতের ১৫টি পশু এবার কুরবানীর জন্য প্রস্তুত করেছি। হাটে বিক্রি করবো। পশু লালন পালনে খরচ আগের চেয়ে দ্বিগুন বেড়েছে। গোখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভ তেমন হচ্ছে না।’
এদিকে, জেলাজুড়ে জমে উঠেছে পশুর হাট। হাটে প্রচুর পশু উঠলেও বেচাকেনা কম হচ্ছে। ক্রেতাদের বড় অংশই এখনো হাটে হাটে ঘুরে পশুর দাম যাচাই করছেন। যদিও হাটে মানুষের উপস্থিতির তুলনায় গরু-ছাগল বিক্রি হচ্ছে কম। আর সাধারণ ক্রেতাসহ দূর থেকে আসা পাইকাররা ঝামেলা এড়াতে বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে হাটের উদ্দেশ্যে আসা গরু-ছাগল আটকিয়ে দরদাম করে কেনার চেষ্টা করছেন।
হবিগঞ্জ পৌরসভার এলাকার বাজারে লাখাই উপজেলা থেকে গরু বিক্রি করতে আসা জলিল মিয়া বলেন, ‘দুইদিন হলো হাটে পাঁচটি গরু নিয়ে আসছি। কিন্তু কেউ তেমন দরদাম করছে না। জানি না গরুগুলো বিক্রি করতে পারব কিনা। নাকি লোকসান গুণতে হবে।’
অন্যদিকে, ক্রেতাদের মুখে তুলনামূলক বেশি দাম চাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গ্রিস প্রবাসী মোহন মিয়া বলেন, ‘আগে গরু দাম কম ছিল। এখন বিক্রেতারা বেশি দাম চাচ্ছেন। যে গরু এক লাখ টাকা চেয়েছিল এখন সেই গরু দেড় লাখ টাকা চাচ্ছে।’
হাট ইজারাদারসহ বিক্রেতাদের দাবি, ঈদের আগের শেষ দু’দিনের হাটেই বিক্রি বাড়বে।
জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নুরুল ইসলাম বলেন, এ বছর কোরবানির জন্য প্রায় ৫০ হাজার গবাদি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে জেলায় চাহিদা রয়েছে ৪৬ হাজার। জেলার চাহিদা মিটিয়ে বাহিরেও পশু বিক্রি করা যাবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি এ বছর চুনারুঘাটের সীমান্ত এলাকায় পশুর হাট বসবে না। তাই ভারতীয় পশু প্রবেশের সম্ভাবনা কম। তারপরও সীমান্ত এলাকাগুলোতে কঠোর নজরদারি রাখা প্রয়োজন।’
জেলা প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, এ বছর জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ৪৬ হাজার। এর মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার গবাদি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। জেলার ১ হাজার ৪৪৪টি খামারে ছোট বড় বিভিন্ন আকারের পশু লালন-পালন করা হয়। ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে দীর্ঘদিনের পরিচর্যায় গড়ে তোলা পশুগুলো এখন বিক্রির পালা। এগুলো বিক্রির জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, পেষ্টার, লিফলেটসহ নানা মাধ্যমে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন খামারিরা। কেউ আবার তুলছেন বিভিন্ন হাটেও।