দেশজুড়ে যখন পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানোর প্রস্তুতি চলছে, তখন ভিন্ন এক বাস্তবতায় দিন কাটছে সুন্দরবনের বনকর্মীদের। বন ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় এবারও বাতিল করা হয়েছে তাদের ঈদের ছুটি। ফলে, টানা আরেকটি ঈদ পরিবার থেকে দূরে থেকেই দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।
বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঈদকে কেন্দ্র করে সুন্দরবনে হরিণ শিকার, বিষ প্রয়োগে মাছ ধরা এবং নানা ধরনের বন অপরাধ বেড়ে যায়। এ সময় সক্রিয় হয়ে ওঠে সংঘবদ্ধ শিকারি চক্র। এসব অপরাধ প্রতিরোধে পুরো বনাঞ্চলে জোরদার করা হয়েছে নজরদারি ও টহল কার্যক্রম।
ইতোমধ্যে সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে দায়িত্ব পালন করছে স্মার্ট পেট্রোলিং টিম। ঈদ উপলক্ষে এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে আরও তিনটি বিশেষ টহল দল। এসব দল বনাঞ্চলের অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে দিন-রাত টহল দেবে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।
বাগেরহাট পূর্ব বন বিভাগের চরাপুটিয়া টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ঈদ বা সরকারি ছুটি আমাদের জীবনে খুব একটা প্রভাব ফেলে না। যখন সবাই পরিবারের সঙ্গে আনন্দে সময় কাটান, তখন আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সুন্দরবনের গভীরে দায়িত্ব পালন করি। বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব।’
তিনি আরও বলেন, ‘জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করলেও আমাদের সুযোগ-সুবিধা খুব সীমিত। তারপরও বন রক্ষার দায়িত্ব থেকে আমরা কখনো পিছিয়ে যাই না।’
বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ঈদের ছুটির সময় হরিণ শিকার ও বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। এতে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ে। এ কারণেই বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গত কয়েক বছর ধরেই দুই ঈদে বনকর্মীদের ছুটি দেওয়া হচ্ছে না। তবে ঈদের পর পর্যায়ক্রমে তারা ছুটি ভোগের সুযোগ পাবেন।