গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় চোর আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। গুরুতর আহতদের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার (১ জুন) রাতে উপজেলার ঘাঘরকান্দা-বেপারীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, সন্ধ্যায় ঘাঘরকান্দা-বেপারীপাড়া গ্রামের মাদক বিরোধী কমিটির সদস্যরা ব্যাটারি চুরির অভিযোগে কাঠিগা গ্রামের মোরসালিন, চিতশী গ্রামের রাসেল ও ঘাঘরকান্দা গ্রামের আব্দুল্লাহকে আটক করে বেপারীপাড়া গ্রামের মাদক বিরোধী কমিটির কার্যালয়ে আটকে রাখে।
এ ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে কাঠিগা ও চিতশী গ্রামের লোকজন এসে মাদক বিরোধী কমিটির কার্যালয় ভাঙচুর করে তাদের ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এর জেরে রাতে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় কয়েকটি বাড়িঘর ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। দফায় দফায় চলা সংঘর্ষে নারীসহ ২৫ জন আহত হয়েছেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘাঘরকান্দা-বেপারীপাড়া গ্রামের মাদক বিরোধী কমিটির সাধারণ সম্পাদক জসিম মোল্লা জানান, ‘বেপারীপাড়া গ্রামের এক ব্যক্তির গাড়ি থেকে মোরসালিন, রাসেল ও আব্দুলাহ এ তিনজন মিলে ব্যাটারি চুরি করে বিক্রি করে দেয়। এ খবর জানার পরে আমরা এ তিন চোরকে আটক করে আমাদের কার্যালয়ে রেখে পুলিশকে খবর দেয়। পরবর্তীতে কাঠিগা-চিতশীর লোকজন এসে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা কার্যালয় ও ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে আটক তিনজনকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।’
কাঠিগা-চিতশী গ্রামের ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন জানান, ‘আমরা কাউকে মারধর করিনি। আমাদের লোকজনকে তারা মারধর করে আহত করেছে।’
এ ব্যাপারে কোটালীপাড়া থানার ওসি মো. রিয়াদ মাহমুদ জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ অভিযোগ দায়ের করেনি। এলাকার পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।